Cademy
SuggestionsBengaliWBBSE

সিন্ধুতীরে কবিতা – Syed Alaol | মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Bengali Sindhutire Question and Answer

28 Aug 2026 0 views

‘সিন্ধুতীরে’ সৈয়দ আলাওল রচিত ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাব্যাংশ। এই অংশে সমুদ্রতীরের এক অপূর্ব সুন্দর পরিবেশ, সমুদ্রকন্যা পদ্মার জীবন, সমুদ্রতীরে অচেতন অবস্থায় পদ্মাবতী ও তাঁর চার সখীর আগমন এবং তাঁদের পুনরায় চেতনা ফিরে পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাহিনি এগিয়েছে।

মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এখানে সিন্ধুতীরে MCQ, অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর সহজ ও পরীক্ষোপযোগী ভাষায় সাজানো হয়েছে।

সিন্ধুতীরে কবিতার সংক্ষিপ্ত পরিচয়

বিষয় তথ্য
কাব্যাংশের নাম সিন্ধুতীরে
কবি সৈয়দ আলাওল
মূল কাব্য পদ্মাবতী
উৎস খণ্ড পদ্মা সমুদ্র খণ্ড
খণ্ডের পরিচয় ৩৫তম খণ্ড
রচনাকাল সপ্তদশ শতক
ছন্দ ত্রিপদী
মূল কাব্যের উৎস মালিক মুহম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবৎ’
কবি যে রাজসভার পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন আরাকান রাজসভা

সিন্ধুতীরে কবিতার মূলভাব

‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশের শুরুতে দেখা যায়, সিংহলরাজকন্যা পদ্মাবতী এবং তাঁর চার সখী সমুদ্রের প্রবল বিপর্যয়ের ফলে একটি মান্দাস বা ভেলায় ভেসে এসে সমুদ্রতীরবর্তী এক মনোরম স্থানে পৌঁছেছেন। তাঁরা তখন অচেতন অবস্থায় ছিলেন।

সমুদ্রকন্যা পদ্মা তাঁর সখীদের সঙ্গে সেই স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁদের দেখতে পান। অপরূপ সুন্দরী পদ্মাবতীকে দেখে পদ্মা বিস্মিত হন। তিনি মনে করেন, হয়তো কোনো বিদ্যাধরি ইন্দ্রের অভিশাপে স্বর্গ থেকে পতিত হয়ে এখানে এসে পড়েছেন অথবা সমুদ্রের প্রবল ঝড়ে তাঁদের এই দুরবস্থা হয়েছে।

পদ্মার মনে তাঁদের প্রতি গভীর মমতা জন্মায়। তিনি সখীদের সাহায্যে পঞ্চকন্যাকে নিজের উদ্যানে নিয়ে আসেন এবং তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তন্ত্র-মন্ত্র, মহৌষধি ও বিভিন্ন পরিচর্যার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত পাঁচ কন্যার চেতনা ফিরে আসে।

কবিতার মূল সুর: সৌন্দর্য, প্রকৃতি, বিপদের মধ্যে মানবিক সহানুভূতি, সেবাপরায়ণতা এবং মানুষের প্রতি মমত্ববোধ ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

সিন্ধুতীরে কবিতার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র

চরিত্র পরিচয় ও ভূমিকা
পদ্মা সমুদ্রনৃপতির কন্যা; সৌন্দর্যপ্রিয়, কৌতূহলী, উদার ও সেবাপরায়ণা।
পদ্মাবতী সিংহলরাজকন্যা এবং রত্নসেনের দ্বিতীয়া স্ত্রী; পঞ্চকন্যার মধ্যে প্রধান চরিত্র।
চার সখী পদ্মাবতীর সঙ্গে সমুদ্রবিপর্যয়ে পড়ে অচেতন হওয়া চার সঙ্গিনী।
মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার অমাত্য ও আলাওলের পৃষ্ঠপোষক।

সিন্ধুতীরে MCQ প্রশ্ন ও উত্তর

১. ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশটির রচয়িতা কে?

(A) মালিক মুহম্মদ জায়সী
(B) সৈয়দ আলাওল
(C) মাগন ঠাকুর
(D) দোমিস্তা

উত্তর: (B) সৈয়দ আলাওল

২. ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের মূল গ্রন্থ ‘পদুমাবৎ’-এর রচয়িতা কে?

(A) মালিক মুহম্মদ জায়সী
(B) মাগন ঠাকুর
(C) সৈয়দ আলাওল
(D) দোমিস্তা

উত্তর: (A) মালিক মুহম্মদ জায়সী

৩. ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?

(A) লোরচন্দ্রাণী
(B) পদ্মাবতী
(C) সতীময়না
(D) তোহফা

উত্তর: (B) পদ্মাবতী

৪. ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশটি ‘পদ্মাবতী’-র কোন খণ্ড থেকে নেওয়া?

(A) পদ্মা সমুদ্র খণ্ড
(B) লক্ষ্মী সমুদ্র খণ্ড
(C) পদ্মাবতী রত্নসেন খণ্ড
(D) রত্নসেন বন্ধন খণ্ড

উত্তর: (A) পদ্মা সমুদ্র খণ্ড

৫. সৈয়দ আলাওল কোন সময়ের কবি?

(A) সপ্তদশ শতক
(B) ষোড়শ শতক
(C) অষ্টাদশ শতক
(D) ত্রয়োদশ শতক

উত্তর: (A) সপ্তদশ শতক

৬. ‘দিব্য পুরী’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

(A) সুন্দর প্রাসাদ
(B) সুন্দর নগরী
(C) সুন্দর বাগান
(D) সমুদ্রতীর

উত্তর: (B) সুন্দর নগরী

৭. ‘দিব্য পুরী’ কোথায় অবস্থিত ছিল?

(A) নদীর তীরে
(B) পিতৃপুরে
(C) সমুদ্রের মাঝে
(D) পাহাড়ের উপরে

উত্তর: (C) সমুদ্রের মাঝে

৮. ‘সমুদ্রনৃপতি সুতা’ কে?

(A) লক্ষ্মী
(B) পদ্মা
(C) উমা
(D) বারুণী

উত্তর: (B) পদ্মা

৯. ‘প্রত্যুষ’ শব্দের অর্থ কী?

(A) রাত্রি
(B) দ্বিপ্রহর
(C) অপরাহ্ণ
(D) ভোর

উত্তর: (D) ভোর

১০. ‘তুরিত গমনে আসি’— কে তুরিত গমনে এসেছিলেন?

(A) সখীগণ
(B) পদ্মা
(C) আলাওল
(D) সমুদ্রনৃপতি

উত্তর: (B) পদ্মা

১১. ‘মধ্যেতে যে কন্যাখানি’— সেই কন্যা কেমন অবস্থায় ছিল?

(A) সংজ্ঞাহীন
(B) আনন্দিত
(C) স্নেহপ্রবণ
(D) নিরাশ

উত্তর: (A) সংজ্ঞাহীন

১২. ‘বালা’ শব্দের অর্থ কী?

(A) সখী
(B) সঙ্গিনী
(C) কন্যা
(D) দুঃখিনী

উত্তর: (C) কন্যা

১৩. পদ্মা অচেতন কন্যাটিকে দেখে কী অনুমান করেছিলেন?

(A) সে দেবী
(B) সে পরি
(C) সে রাজকন্যা
(D) সে বিদ্যাধরি

উত্তর: (D) সে বিদ্যাধরি

১৪. বিদ্যাধরি কী কারণে স্বর্গভ্রষ্ট হতে পারে?

(A) ইন্দ্রের অভিশাপে
(B) স্বেচ্ছায়
(C) মুনির অভিশাপে
(D) অসাবধানতায়

উত্তর: (A) ইন্দ্রের অভিশাপে

১৫. ‘বাও’ শব্দের অর্থ কী?

(A) প্রণাম
(B) বজ্র
(C) বায়ু
(D) আঘাত

উত্তর: (C) বায়ু

১৬. ‘আছয়’ শব্দের গদ্যরূপ কী?

(A) আশ্রয়
(B) ছয়
(C) ছন্নছাড়া
(D) আছে

উত্তর: (D) আছে

১৭. ‘চিকিৎসিমু’ শব্দের গদ্যরূপ কী?

(A) চিকিৎসা করব
(B) চিকিৎসক
(C) চিকিৎসিত
(D) চিকিৎসা

উত্তর: (A) চিকিৎসা করব

১৮. পদ্মা কার কৃপা প্রার্থনা করেছিলেন?

(A) সমুদ্রনৃপতির
(B) মাগনগুণীর
(C) নিরঞ্জনের
(D) ইন্দ্রের

উত্তর: (C) নিরঞ্জনের

১৯. ‘সখী সবে আজ্ঞা দিল’— আজ্ঞা কে দিয়েছিলেন?

(A) পদ্মা
(B) বিদ্যাধরি
(C) মনোরমা
(D) আলাওল

উত্তর: (A) পদ্মা

২০. অচেতন কন্যার সংখ্যা কত ছিল?

(A) পাঁচ
(B) ছয়
(C) চার
(D) তিন

উত্তর: (A) পাঁচ

২১. পঞ্চকন্যাকে কীভাবে সুস্থ করা হয়েছিল?

(A) ফল-মূল দিয়ে
(B) তন্ত্র-মন্ত্র ও মহৌষধি দিয়ে
(C) কন্দ-শিকড় দিয়ে
(D) শুধু ভেষজ ওষুধ দিয়ে

উত্তর: (B) তন্ত্র-মন্ত্র ও মহৌষধি দিয়ে

২২. শ্রীযুত মাগন কে ছিলেন?

(A) পদ্মার পিতা
(B) আলাওলের পৃষ্ঠপোষক
(C) ইন্দ্র
(D) মোহন্ত

উত্তর: (B) আলাওলের পৃষ্ঠপোষক

২৩. কাব্যের শেষে কবির আত্মপরিচয় দেওয়ার রীতিকে কী বলে?

(A) গৌরচন্দ্রিকা
(B) উপসংহার
(C) উপস্থাপনা
(D) ভনিতা

উত্তর: (D) ভনিতা

২৪. ‘মাঞ্জুস’ শব্দের অর্থ কী?

(A) ভেলা
(B) জাহাজ
(C) লহর
(D) বজরা

উত্তর: (A) ভেলা

২৫. ‘বিদ্যাধরি’ আসলে কে?

(A) ইন্দ্রের সভার নৃত্যশিল্পী
(B) ব্রহ্মার মানসকন্যা
(C) ইন্দ্রের সভার বাচিক শিল্পী
(D) ইন্দ্রের সভার গায়িকা

উত্তর: (D) ইন্দ্রের সভার গায়িকা

২৬. ‘বাহুরক কন্যার জীবন’— এখানে কন্যা কে?

(A) বিদ্যাধরি
(B) পদ্মাবতী
(C) অপ্সরা
(D) পদ্মা

উত্তর: (B) পদ্মাবতী

২৭. সিন্ধুতীরের উপরের পর্বত কেমন ছিল?

(A) পশুপাখিতে ভরা
(B) জনমানুষে পূর্ণ
(C) ফল-ফুলে সজ্জিত
(D) ঘরবাড়িতে পূর্ণ

উত্তর: (C) ফল-ফুলে সজ্জিত

২৮. ‘অতি মনোহর দেশ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

(A) সিংহলকে
(B) চিতোরকে
(C) সমুদ্রকে
(D) সমুদ্রসংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চলকে

উত্তর: (D) সমুদ্রসংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চলকে

২৯. ‘টঙ্গি’ শব্দের অর্থ কী?

(A) টালি
(B) গাছপালা
(C) তিরধনুক
(D) প্রাসাদ

উত্তর: (D) প্রাসাদ

৩০. ‘কন্যারে ফেলিল যথা’— এই কন্যা কে?

(A) রত্নসেনের স্ত্রী পদ্মাবতী
(B) পদ্মাবতীর পঞ্চম সখী
(C) রত্নসেনের কন্যা পদ্মাবতী
(D) সমুদ্রকন্যা পদ্মা

উত্তর: (C) রত্নসেনের কন্যা পদ্মাবতী

সিন্ধুতীরে অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

১. ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশটির রচয়িতা কে?

উত্তর: সপ্তদশ শতকের আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওল ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশটির রচয়িতা।

২. সৈয়দ আলাওল কোন রাজসভার পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন?

উত্তর: সৈয়দ আলাওল আরাকান রাজসভার পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন।

৩. ‘সিন্ধুতীরে’ কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?

উত্তর: ‘সিন্ধুতীরে’ সৈয়দ আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ।

৪. ‘পদ্মাবতী’ কোন কাব্যের অনুসরণে রচিত?

উত্তর: ‘পদ্মাবতী’ মালিক মুহম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুসরণে রচিত।

৫. ‘সিন্ধুতীরে’ ‘পদ্মাবতী’-র কোন খণ্ড থেকে গৃহীত?

উত্তর: এটি ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের ‘পদ্মা সমুদ্র’ নামের ৩৫তম খণ্ড থেকে গৃহীত।

৬. ‘সিন্ধুতীরে’ কোন ছন্দে রচিত?

উত্তর: ‘সিন্ধুতীরে’ ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

৭. ‘দিব্য পুরী’-র বৈশিষ্ট্য কী ছিল?

উত্তর: ‘দিব্য পুরী’ ছিল অত্যন্ত সুন্দর একটি নগরী। সেখানে দুঃখ-কষ্ট ছিল না এবং সত্যধর্ম ও সদাচারের চর্চা ছিল।

৮. ‘সমুদ্রনৃপতি সুতা’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: ‘সমুদ্রনৃপতি সুতা’ বলতে সমুদ্ররাজের কন্যা পদ্মাকে বোঝানো হয়েছে।

৯. স্থানটিকে ‘দিব্যস্থান’ বলা হয়েছে কেন?

উত্তর: স্থানটির অপরূপ সৌন্দর্য, মানুষের দুঃখহীন জীবন এবং সত্য ও সদাচারের জন্য তাকে ‘দিব্যস্থান’ বলা হয়েছে।

১০. কে কোথায় উদ্যান রচনা করেছিলেন?

উত্তর: সমুদ্রকন্যা পদ্মা সমুদ্রতীরের সুউচ্চ পর্বতের পাশে একটি সুন্দর উদ্যান রচনা করেছিলেন।

১১. ‘তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ’— ‘তথা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: এখানে পদ্মার নির্মিত উদ্যানের মধ্যে অবস্থিত রত্নখচিত প্রাসাদের কথা বোঝানো হয়েছে, যেখানে পদ্মা থাকতেন।

১২. প্রত্যুষকালে পদ্মা কী করতেন?

উত্তর: খুব ভোরে পদ্মা তাঁর সখীদের সঙ্গে নিজের তৈরি উদ্যানে ভ্রমণ করতেন।

১৩. তুরিত গমনে এসে পদ্মা কী দেখতে পেলেন?

উত্তর: পদ্মা সমুদ্রতীরে একটি ভেলা দেখতে পেলেন। সেই ভেলায় অচেতন অবস্থায় পাঁচ কন্যা ছিল।

১৪. ‘মধ্যেতে যে কন্যাখানি’— কোন কন্যার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: অচেতন পাঁচ কন্যার মধ্যে অপরূপ সুন্দরী সিংহলরাজকন্যা পদ্মাবতীর কথা বলা হয়েছে।

১৫. পদ্মা কী অনুমান করেছিলেন?

উত্তর: পদ্মা মনে করেছিলেন, সুন্দরী কন্যাটি হয়তো ইন্দ্রের অভিশাপে স্বর্গভ্রষ্ট কোনো বিদ্যাধরি অথবা সমুদ্রের প্রবল ঝড়ে বিপর্যস্ত কোনো নারী।

১৬. পদ্মা আর কী অনুমান করেছিলেন?

উত্তর: তিনি অনুমান করেছিলেন, প্রবল সমুদ্রঝড়ের ফলে নৌকাডুবি হয়ে পঞ্চকন্যা অচেতন হয়ে পড়তে পারেন।

১৭. পদ্মা সখীদের কী আদেশ দিয়েছিলেন?

উত্তর: পদ্মা তাঁর সখীদের পঞ্চকন্যাকে বসনে ঢেকে উদ্যানে নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

১৮. পদ্মা ও তাঁর সখীরা পঞ্চকন্যার কী চিকিৎসা করেছিলেন?

উত্তর: তাঁদের মাথা ও পায়ে গরম সেঁক দেওয়া হয় এবং তন্ত্র-মন্ত্র ও মহৌষধির সাহায্যে চিকিৎসা করা হয়।

১৯. পঞ্চকন্যা কীভাবে চেতনা ফিরে পেল?

উত্তর: পদ্মা ও তাঁর সখীদের যত্ন, গরম সেঁক, তন্ত্র-মন্ত্র ও মহৌষধির সাহায্যে দীর্ঘ চিকিৎসার পর পঞ্চকন্যা চেতনা ফিরে পায়।

২০. আলাওল কবিতার শেষে মাগন ঠাকুরের নাম উল্লেখ করেছেন কেন?

উত্তর: মাগন ঠাকুর ছিলেন আলাওলের পৃষ্ঠপোষক। তাঁর আদেশ ও পৃষ্ঠপোষকতায় ‘পদ্মাবতী’ রচনা শুরু হয়েছিল। তাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য কবি তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন।

২১. ‘কন্যারে ফেলিল যথা’— কন্যাটি কোথায় পড়েছিল?

উত্তর: পদ্মাবতী ও তাঁর চার সখী একটি মান্দাসে ভেসে সমুদ্রতীরবর্তী স্থানে এসে পড়েছিলেন। সেখানেই পদ্মাবতী অচেতন অবস্থায় পড়েছিলেন।

২২. দেশটিকে ‘অতি মনোহর’ বলা হয়েছে কেন?

উত্তর: দেশটি অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা ছিল এবং সেখানে মানুষের দুঃখ-কষ্ট ছিল না। সত্যধর্ম ও সদাচারও সেখানে প্রচলিত ছিল।

২৩. ‘টঙ্গি’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: ‘টঙ্গি’ শব্দের অর্থ প্রাসাদ।

২৪. ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় দুই ‘কন্যা’ কারা?

উত্তর: একজন সমুদ্ররাজের কন্যা পদ্মা এবং অন্যজন সিংহলরাজকন্যা পদ্মাবতী।

২৫. কে কোথায় চেতনা হারিয়েছিল?

উত্তর: রত্নসেনের দ্বিতীয়া স্ত্রী পদ্মাবতী মান্দাসে ভেসে সমুদ্রতীরে এসে চেতনা হারিয়েছিলেন।

২৬. ‘সিন্ধুতীরে’ কোন সময়ের বাংলা সাহিত্যের নিদর্শন?

উত্তর: ‘সিন্ধুতীরে’ সপ্তদশ শতকের মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

২৭. ‘সিন্ধু-ক্লেশ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: সমুদ্রের প্রবল ঝড় ও বিপর্যয়ের ফলে নৌকাডুবি এবং সমুদ্রযাত্রার দুর্ভোগকে ‘সিন্ধু-ক্লেশ’ বলা হয়েছে।

সিন্ধুতীরে রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

১. ‘কন্যারে ফেলিল যথা’— কন্যার পরিচয় দাও। তাকে যেখানে ফেলা হয়েছিল, সেই স্থানটি কীরূপ ছিল?

উত্তর: এখানে ‘কন্যা’ বলতে সিংহলরাজকন্যা পদ্মাবতীকে বোঝানো হয়েছে। তিনি পরবর্তীকালে চিতোররাজ রত্নসেনের দ্বিতীয়া স্ত্রী হন। সমুদ্রের প্রবল বিপর্যয়ের ফলে পদ্মাবতী তাঁর চার সখীর সঙ্গে একটি মান্দাসে ভেসে সমুদ্রতীরবর্তী এক অপরূপ স্থানে এসে পড়েছিলেন।

পদ্মাবতী যেখানে এসে পড়েছিলেন, সেই স্থানটি ছিল অত্যন্ত মনোরম। সেখানে দুঃখ-কষ্টের চিহ্ন ছিল না। সত্যধর্ম ও সদাচার ছিল মানুষের জীবনযাপনের অংশ। সমুদ্রের পাশে সুউচ্চ পর্বত, তার পাশে সুন্দর উদ্যান এবং নানা ফুল-ফল-সুগন্ধিতে ভরা প্রাকৃতিক পরিবেশ স্থানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছিল। সেই অঞ্চলে সমুদ্রকন্যা পদ্মার রত্নখচিত প্রাসাদও ছিল।

২. সৈয়দ আলাওল রচিত ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক পরিপ্রেক্ষিত আলোচনা করো।

উত্তর: সৈয়দ আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্য। এটি হিন্দি-অবধি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুসরণে রচিত। তবে আলাওল কেবল আক্ষরিক অনুবাদ করেননি; তাঁর নিজস্ব কাব্যপ্রতিভা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে রচনাটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য লাভ করেছে।

আরাকান রাজসভায় আলাওল সাহিত্যচর্চার সুযোগ পান। মাগন ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি ‘পদ্মাবতী’ রচনায় উদ্যোগী হন। জায়সীর কাব্যে আধ্যাত্মিকতার প্রাধান্য থাকলেও আলাওলের রচনায় মানবীয় প্রেম, সৌন্দর্য ও মানবিকতার দিকটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

এই কারণেই ‘পদ্মাবতী’ মধ্যযুগের প্রচলিত ধর্মকেন্দ্রিক কাব্যধারার মধ্যেও একটি আলাদা স্বর তৈরি করেছে।

৩. ‘সমুদ্রনৃপতিসুতা’-র নাম কী? ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতা অবলম্বনে তাঁর চরিত্র আলোচনা করো।

উত্তর: ‘সমুদ্রনৃপতিসুতা’ হলেন পদ্মা, সমুদ্ররাজের কন্যা। ‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে পদ্মার চরিত্র বিশেষভাবে উজ্জ্বল।

সৌন্দর্যপ্রিয় ও প্রকৃতিপ্রেমী: সমুদ্রের মাঝে অপরূপ স্থান দেখে পদ্মা সেখানে সুন্দর উদ্যান ও রত্নখচিত প্রাসাদ নির্মাণ করেন। প্রকৃতির সৌন্দর্যের প্রতি তাঁর গভীর আকর্ষণ এতে প্রকাশ পায়।

কৌতূহলী: একদিন উদ্যানে ভ্রমণের সময় সমুদ্রতীরে ভেলা দেখে তাঁর কৌতূহল জাগে। সেই কৌতূহল থেকেই তিনি কাছে গিয়ে অচেতন পঞ্চকন্যাকে দেখতে পান।

সেবাপরায়ণা: অচেনা কন্যাদের বিপদ দেখে তিনি তাঁদের উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তাঁদের সুস্থ করার জন্য নিজের জ্ঞান ও সামর্থ্য ব্যবহার করেন।

উদার ও পরোপকারী: পদ্মা অপরিচিত নারীদের প্রতি কোনো বিরূপতা দেখাননি। বরং গভীর মমতা ও সহানুভূতির সঙ্গে তাঁদের সেবা করেছেন। তাঁর এই মানবিক গুণই চরিত্রটিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।

৪. ‘তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ’— কোন কন্যার কথা বলা হয়েছে? কন্যা কোথায় এবং কেন সর্বক্ষণ থাকেন?

উত্তর: এখানে ‘কন্যা’ বলতে সমুদ্রনৃপতির কন্যা পদ্মাকে বোঝানো হয়েছে। সমুদ্রতীরের এক অপরূপ সুন্দর স্থানে পদ্মা নিজের বাসস্থান তৈরি করেছিলেন।

সেই স্থানের পাশে ছিল সুউচ্চ পর্বত। পদ্মা সেখানে একটি সুন্দর উদ্যান তৈরি করেছিলেন। উদ্যানে নানা ধরনের ফুল ও ফলের সমারোহ ছিল এবং ফুলের সুগন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ত। উদ্যানের মধ্যে ছিল রত্নখচিত এক সুন্দর প্রাসাদ।

প্রকৃতির সৌন্দর্য, শান্ত পরিবেশ এবং দুঃখহীন জীবনযাপনের কারণে পদ্মার কাছে স্থানটি অত্যন্ত প্রিয় ছিল। তাই তিনি সেই স্থান ছেড়ে অন্যত্র না গিয়ে সেখানেই সর্বক্ষণ বসবাস করতেন।

৫. ‘পঞ্চকন্যা পাইল চেতন’— পঞ্চকন্যা কারা? তারা কীভাবে চেতনা ফিরে পেয়েছিল?

উত্তর: ‘পঞ্চকন্যা’ বলতে সিংহলরাজকন্যা পদ্মাবতী এবং তাঁর চার সখীকে বোঝানো হয়েছে। সমুদ্রের বিপর্যয়ের ফলে তাঁরা অচেতন অবস্থায় সমুদ্রতীরে এসে পড়েছিলেন।

সমুদ্রকন্যা পদ্মা তাঁদের দেখতে পেয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হন। তিনি সখীদের নির্দেশ দেন তাঁদের উদ্যানে নিয়ে আসতে। এরপর তাঁদের মাথা ও পায়ে গরম সেঁক দেওয়া হয় এবং তন্ত্র-মন্ত্র ও মহৌষধির সাহায্যে চিকিৎসা করা হয়। পদ্মা তাঁদের সুস্থ করার জন্য নিজের বিদ্যা ও সামর্থ্য ব্যবহার করেন।

দীর্ঘ সময় ধরে পরিচর্যার পর অবশেষে পঞ্চকন্যা চেতনা ফিরে পায়। এই ঘটনায় পদ্মার সেবাপরায়ণতা, মমতা ও মানবিকতার পরিচয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

৬. ‘দেখিয়া রূপের কলা / বিস্মিত হইল বালা / অনুমান করে নিজ চিতে’— ‘বালা’ শব্দের অর্থ কী? তাঁর বিস্মিত হওয়ার কারণ কী?

উত্তর: ‘বালা’ শব্দের অর্থ কন্যা। এখানে সমুদ্ররাজের কন্যা পদ্মার কথা বলা হয়েছে।

সমুদ্রতীরে ভেলায় চার সখী পরিবৃত এক অপরূপ সুন্দরী কন্যাকে অচেতন অবস্থায় দেখে পদ্মা বিস্মিত হয়েছিলেন। পদ্মাবতীর রূপ-লাবণ্য তাঁকে এতটাই মুগ্ধ করেছিল যে তিনি মনে করেছিলেন, এই কন্যা হয়তো স্বর্গের কোনো অপ্সরা বা বিদ্যাধরি। ইন্দ্রের অভিশাপে হয়তো সে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে পতিত হয়েছে— এমন কথাও তাঁর মনে হয়।

আবার তাঁদের অচেতন অবস্থা, পোশাক ও এলোমেলো চুল দেখে পদ্মার মনে হয়েছিল, হয়তো প্রবল সমুদ্রঝড়ের কারণে তাঁদের এই দুরবস্থা হয়েছে।

৭. ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতাটির বিষয়বস্তু সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তর: ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় সিংহলরাজকন্যা পদ্মাবতী ও তাঁর চার সখীর সমুদ্রবিপর্যয়ে পতিত হওয়ার ঘটনা দিয়ে কাহিনি এগিয়েছে। তাঁরা একটি মান্দাস বা ভেলায় ভেসে সমুদ্রের মাঝে অবস্থিত এক মনোরম স্থানে এসে পৌঁছান।

এই স্থানটি ছিল দুঃখহীন, সত্যধর্ম ও সদাচারে পূর্ণ। সেখানে সমুদ্রনৃপতির কন্যা পদ্মা একটি সুন্দর উদ্যান ও প্রাসাদ তৈরি করে বসবাস করতেন।

একদিন পদ্মা তাঁর সখীদের সঙ্গে উদ্যানে যাওয়ার সময় সমুদ্রতীরে অচেতন পাঁচ কন্যাকে দেখতে পান। পদ্মাবতীর অসাধারণ সৌন্দর্যে তিনি বিস্মিত হন এবং তাঁদের বিপদের সম্ভাব্য কারণ অনুমান করেন। এরপর তিনি তাঁদের উদ্ধার করে নিজের উদ্যানে নিয়ে যান এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তন্ত্র-মন্ত্র ও মহৌষধির সাহায্যে অবশেষে পঞ্চকন্যা চেতনা ফিরে পায়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কবিতায় প্রকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি সহমর্মিতা, সেবা, মানবিকতা ও নারীর মমত্ববোধ সুন্দরভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

৮. মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের বিচারে ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতার বৈশিষ্ট্য ও ব্যতিক্রমী স্বাতন্ত্র্য আলোচনা করো।

উত্তর: মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বড় অংশে দেবদেবীর মাহাত্ম্য ও ধর্মীয় বিষয়ের প্রাধান্য দেখা যায়। সেই সাহিত্যিক পরিবেশে দাঁড়িয়ে সৈয়দ আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এখানে মানবিক অনুভূতি ও মানুষের প্রতি সহানুভূতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পদ্মা অচেনা ও পরিচয়হীন পঞ্চকন্যাকে দেখে তাঁদের জন্য উদ্বিগ্ন হন। তাঁদের বাঁচানোর জন্য তিনি নিজের জ্ঞান, বিদ্যা ও সামর্থ্য ব্যবহার করেন। যদিও তিনি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন, শেষ পর্যন্ত পঞ্চকন্যার চেতনা ফিরে আসে তাঁর নিজের চিকিৎসা ও সেবার মাধ্যমে।

অর্থাৎ কেবল দেবতার কৃপা নয়, মানুষের মানবিকতা, জ্ঞান, সেবা ও কর্মশক্তিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতাকে মধ্যযুগীয় সাহিত্যের মধ্যে স্বতন্ত্র মর্যাদা দিয়েছে।

৯. ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতার কবি সৈয়দ আলাওলের কবিপ্রতিভা সম্পর্কে তোমার ধারণা ব্যক্ত করো।

উত্তর: সৈয়দ আলাওল ছিলেন মধ্যযুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি। মালিক মুহম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবৎ’ অনুসরণ করে ‘পদ্মাবতী’ রচনা করলেও তিনি নিছক অনুবাদক হয়ে থাকেননি। তাঁর ভাষা সহজ, সাবলীল এবং কাহিনির উপস্থাপনায় স্বাভাবিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।

‘সিন্ধুতীরে’ কাব্যাংশে চরিত্রগুলির মানসিক অবস্থা, প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং ঘটনাগুলির ধারাবাহিক বর্ণনা অত্যন্ত জীবন্ত। পদ্মাবতীকে দেখে পদ্মার বিস্ময়, তাঁর উদ্বেগ এবং পঞ্চকন্যাকে সুস্থ করার আন্তরিকতা কবির মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দেয়।

পয়ার ও ত্রিপদীর মতো বাংলা ছন্দে কাহিনিকে রূপ দেওয়া, উপমা ও চিত্রকল্পের যথাযথ ব্যবহার এবং মানবিক অনুভূতির প্রকাশ আলাওলের কবিপ্রতিভাকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।

১০. মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের নিদর্শন হিসেবে ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতার ভাষা, ছন্দ ও উপমা সম্পর্কে আলোচনা করো।

উত্তর: ‘সিন্ধুতীরে’ মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যাংশ। এর ভাষায় মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে কাহিনি বলার স্বাভাবিকতা।

আলাওল জায়সীর কাব্য অনুসরণ করলেও বাংলা ভাষায় তাকে নতুনভাবে রূপ দিয়েছেন। ‘পদ্মাবতী’ কাব্যে পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দের ব্যবহার তাঁর ছন্দজ্ঞান ও কাব্যদক্ষতার পরিচয় বহন করে। পাঠ্য ‘সিন্ধুতীরে’ অংশটি ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

উপমা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আলাওল অত্যন্ত দক্ষ। পদ্মাবতীর সৌন্দর্যকে স্বর্গের অপ্সরার সঙ্গে তুলনা করা, তাঁকে বিদ্যাধরির সঙ্গে কল্পনা করা কিংবা তাঁর রূপকে ছবির মতো সুন্দর বলে ভাবা— এসব উপমা কবিতার সৌন্দর্য বাড়িয়েছে।

প্রকৃতির বর্ণনা, নগরের সৌন্দর্য এবং চরিত্রের মানসিক অনুভূতির সঙ্গে উপমা ও চিত্রকল্পের সংযোগ কবিতাটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

১১. ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতাটির নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো।

উত্তর: ‘সিন্ধুতীরে’ নামটি কবিতাটির বিষয়বস্তুর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। পুরো কাব্যাংশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলি সমুদ্রতীরবর্তী এক মনোরম স্থানকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। পদ্মাবতী ও তাঁর চার সখী সমুদ্রের বিপর্যয়ের পর যে স্থানে এসে পৌঁছান, সেখানেই সমুদ্রকন্যা পদ্মার বাসস্থান।

সমুদ্রতীরের প্রকৃতি, তার সৌন্দর্য, পদ্মার উদ্যান, পঞ্চকন্যার আগমন এবং তাঁদের উদ্ধারের ঘটনা— সবকিছুই এই স্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তাই কাব্যাংশটির নাম ‘সিন্ধুতীরে’ যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

নামকরণের মূল কারণ: সমুদ্রতীর কেবল কবিতার পটভূমি নয়; এখানেই কাহিনির প্রধান ঘটনাগুলি সংঘটিত হয়েছে। তাই ‘সিন্ধুতীরে’ নামটি বিষয়বস্তুর সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ।

সিন্ধুতীরে গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ

শব্দ অর্থ
প্রত্যুষ ভোর
তুরিত দ্রুত
বালা কন্যা
বাও বায়ু
আছয় আছে
চিকিৎসিমু চিকিৎসা করব
মাঞ্জুস ভেলা
টঙ্গি প্রাসাদ
সিন্ধু-ক্লেশ সমুদ্রযাত্রার দুর্ভোগ
ভনিতা কাব্যের শেষে কবির আত্মপরিচয় বা নামোল্লেখের রীতি

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

বিশেষভাবে প্রস্তুত করবে: ‘সিন্ধুতীরে’-র উৎস ও রচয়িতা, ‘পদ্মা সমুদ্র’ খণ্ড, ‘পদুমাবৎ’-এর সঙ্গে সম্পর্ক, ত্রিপদী ছন্দ, সমুদ্রনৃপতিসুতা পদ্মার চরিত্র, পদ্মাবতী ও পঞ্চসখীর পরিচয়, পঞ্চকন্যার চেতনা ফিরে পাওয়ার ঘটনা, ‘দিব্য পুরী’-র বর্ণনা, মাগন ঠাকুরের পরিচয়, কবিতার মানবিক বৈশিষ্ট্য এবং নামকরণের সার্থকতা।

সহজে মনে রাখার সূত্র:
সিন্ধুতীরে → সৈয়দ আলাওল
মূল কাব্য → পদ্মাবতী
মূল উৎস → পদুমাবৎ
উৎস খণ্ড → পদ্মা সমুদ্র
ছন্দ → ত্রিপদী
সমুদ্রনৃপতিসুতা → পদ্মা
পঞ্চকন্যা → পদ্মাবতী + চার সখী
পৃষ্ঠপোষক → মাগন ঠাকুর
রাজসভা → আরাকান
সময় → সপ্তদশ শতক

Frequently Asked Questions