Cademy
SuggestionsBengaliWBBSE

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি – Shankha Ghosh | Madhyamik Bengali Question and Answer

28 Aug 2026 0 views

‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় শঙ্খ ঘোষ সমকালীন পৃথিবীর এক গভীর সংকটের ছবি তুলে ধরেছেন। যুদ্ধ, হিংসা, গৃহহীনতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং সাধারণ মানুষের ইতিহাসহীনতার মধ্যেও কবি মানুষের ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর আস্থা রেখেছেন। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কবিতাটির গুরুত্বপূর্ণ MCQ, অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর নিচে সহজ ভাষায় সাজানো হলো।

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি: কবিতা পরিচিতি

বিষয় তথ্য
কবিতার নাম আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি
কবি শঙ্খ ঘোষ
মূল কাব্যগ্রন্থ জলই পাষাণ হয়ে আছে
শ্রেণি মাধ্যমিক দশম শ্রেণি
বিষয় বাংলা
প্রধান ভাব যুদ্ধ, হিংসা, সাধারণ মানুষের সংকট এবং ঐক্যের আহ্বান

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি MCQ প্রশ্ন ও উত্তর

১. ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?

(ক) নিহিত পাতাল ছায়া
(খ) পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ
(গ) দিনগুলি রাতগুলি
(ঘ) জলই পাষাণ হয়ে আছে

উত্তর: (ঘ) জলই পাষাণ হয়ে আছে

২. ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার কবি কে?

(ক) জীবনানন্দ দাশ
(খ) শঙ্খ ঘোষ
(গ) নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
(ঘ) বিষ্ণু দে

উত্তর: (খ) শঙ্খ ঘোষ

৩. শঙ্খ ঘোষের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?

(ক) দিনগুলি রাতগুলি
(খ) নিহিত পাতাল ছায়া
(গ) মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে
(ঘ) বাবরের প্রার্থনা

উত্তর: (ক) দিনগুলি রাতগুলি

৪. শঙ্খ ঘোষের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?

(ক) মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে
(খ) অল্প বয়সে
(গ) কালের মাত্রা ও রবীন্দ্র নাটক
(ঘ) সুপুরিবনের সারি

উত্তর: (গ) কালের মাত্রা ও রবীন্দ্র নাটক

৫. শঙ্খ ঘোষের ছদ্মনাম কী?

(ক) যাযাবর
(খ) মৌমাছি
(গ) নীললোহিত
(ঘ) কুত্তক

উত্তর: (ঘ) কুত্তক

৬. ‘কুত্তক’ ছদ্মনামে শঙ্খ ঘোষের লেখা রচনার উদাহরণ কোনটি?

(ক) শব্দ নিয়ে খেলা ও কথা নিয়ে খেলা
(খ) দিনগুলি রাতগুলি ও বাবরের প্রার্থনা
(গ) ছন্দময় জীবন ও ভিন্ন রুচির অধিকার
(ঘ) এই শহরের রাখাল ও ছন্দের বারান্দা

উত্তর: (ক) শব্দ নিয়ে খেলা ও কথা নিয়ে খেলা

৭. ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কথাটি কবিতায় কতবার ব্যবহৃত হয়েছে?

(ক) একবার
(খ) দুবার
(গ) তিনবার
(ঘ) চারবার

উত্তর: (খ) দুবার

৮. ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কথাটির মূল অর্থ কী?

(ক) দৃঢ় বন্ধনে একসঙ্গে থাকা
(খ) আলাদা হয়ে থাকা
(গ) বন্ধনমুক্ত থাকা
(ঘ) ঢিলেঢালা ভাবে থাকা

উত্তর: (ক) দৃঢ় বন্ধনে একসঙ্গে থাকা

৯. কবিতার দ্বিতীয় পঙ্ক্তি কোনটি?

(ক) আমাদের ডান পাশে ধ্বস
(খ) আমাদের বাঁয়ে গিরিখাদ
(গ) আমাদের মাথায় বোমারু
(ঘ) আমাদের ঘর গেছে উড়ে

উত্তর: (খ) আমাদের বাঁয়ে গিরিখাদ

১০. ‘গিরিখাদ’ শব্দের অর্থ কী?

(ক) স্থানচ্যুতি
(খ) অদৃশ্য হওয়া
(গ) চূড়া
(ঘ) পর্বতের গভীর খাদ

উত্তর: (ঘ) পর্বতের গভীর খাদ

১১. ‘আমাদের মাথায় ______’— শূন্যস্থানে কী হবে?

(ক) বোমারু
(খ) গিরিখাদ
(গ) চূড়া
(ঘ) হিমানী

উত্তর: (ক) বোমারু

১২. কবিতায় ‘হিমানীর বাঁধ’ কোথায় রয়েছে?

(ক) হাতে হাতে
(খ) পায়ে পায়ে
(গ) মাথায় মাথায়
(ঘ) শিরায় শিরায়

উত্তর: (খ) পায়ে পায়ে

১৩. ‘হিমানী’ শব্দের অর্থ কী?

(ক) কাজল
(খ) আগুন
(গ) তুষার
(ঘ) পর্বত

উত্তর: (গ) তুষার

১৪. কবিতায় কাদের শবদেহের উল্লেখ রয়েছে?

(ক) বৃদ্ধদের
(খ) শিশুদের
(গ) যুবকদের
(ঘ) বৃদ্ধাদের

উত্তর: (খ) শিশুদের

১৫. ‘আমাদের পথ নেই আর’— এখানে ‘পথ’ শব্দটি কতবার ব্যবহৃত হয়েছে?

(ক) একবার
(খ) দুবার
(গ) তিনবার
(ঘ) চারবার

উত্তর: (খ) দুবার

১৬. কবির মতে ‘আমাদের’ কী নেই?

(ক) ভূগোল
(খ) ইতিহাস
(গ) বাংলা
(ঘ) জীবন

উত্তর: (ঘ) জীবন

১৭. ‘আমাদের চোখমুখ ঢাকা’ কথাটির অর্থ কী?

(ক) মুখোশাবৃত
(খ) সময়াবৃত
(গ) অলংকারাবৃত
(ঘ) সমাজাবৃত

উত্তর: (ক) মুখোশাবৃত

১৮. ‘আমরা ভিখারি’ কত মাস?

(ক) পাঁচ মাস
(খ) ছয় মাস
(গ) আট মাস
(ঘ) বারো মাস

উত্তর: (ঘ) বারো মাস

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

১. ‘আমাদের’ বলতে কবি কাদের বুঝিয়েছেন?

উত্তর: কবি ‘আমাদের’ বলতে দেশ-কাল নির্বিশেষে শোষণ, যুদ্ধ, হিংসা ও আগ্রাসনের শিকার সাধারণ মানুষকে বুঝিয়েছেন।

২. ‘ডান পাশে ধ্বস’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: মানুষের চলার পথে প্রতি মুহূর্তে যে বিপদ ও পতনের আশঙ্কা রয়েছে, ‘ধ্বস’ তারই প্রতীক।

৩. ‘বাঁয়ে গিরিখাদ’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: গিরিখাদ হলো পর্বতের গভীর খাদ। কবিতায় এটি মানুষের জীবনের চারদিকে ছড়িয়ে থাকা গভীর বিপদ ও অনিশ্চয়তার প্রতীক।

৪. ‘আমাদের মাথায় বোমারু’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: যুদ্ধবাজ শক্তির বোমা হামলার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের জীবন কীভাবে সর্বদা বিপন্ন, তা বোঝানো হয়েছে।

৫. ‘পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: মানুষের প্রতিটি পদক্ষেপে যে কঠিন বাধা ও প্রতিকূলতা দেখা দেয়, তাকে বরফের বাঁধের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

৬. ‘আমাদের পথ নেই কোনো’— এর অর্থ কী?

উত্তর: যুদ্ধ, হিংসা, সামাজিক অস্থিরতা ও নানা প্রতিকূলতার কারণে সাধারণ মানুষ জীবনের নিরাপদ ও স্বাভাবিক পথ হারিয়ে ফেলেছে— এই অসহায়তাই এখানে প্রকাশিত।

৭. ‘আমাদের ঘর গেছে উড়ে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: যুদ্ধ ও হিংসার কারণে বহু সাধারণ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি হারিয়ে গৃহহীন ও আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে— এই বাস্তবতাই বোঝানো হয়েছে।

৮. ‘আমাদের শিশুদের শব’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: যুদ্ধ ও হিংসার নির্মমতায় নিষ্পাপ শিশুরাও যে প্রাণ হারাচ্ছে, তাদের মৃতদেহের কথাই কবি বলেছেন।

৯. ‘আমরাও তবে এইভাবে / এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?’— এই সংশয় কেন?

উত্তর: যখন সাধারণ মানুষ নিজের সন্তানদেরও রক্ষা করতে পারছে না এবং চারদিকে মৃত্যুর আশঙ্কা, তখন নিজের অস্তিত্ব নিয়েও সংশয় তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

১০. ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’— এই আহ্বানের কারণ কী?

উত্তর: সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে মানুষের ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতাই শক্তি। তাই কবি বিপন্ন মানুষকে একসঙ্গে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

১১. ‘আমাদের ইতিহাস নেই’ বলা হয়েছে কেন?

উত্তর: ক্ষমতাবানদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ইতিহাসে সাধারণ মানুষের দুঃখ, সংগ্রাম ও বঞ্চনার যথাযথ স্থান নেই। তাই কবি তাঁদের ইতিহাসহীনতার কথা বলেছেন।

১২. ‘আমাদের চোখমুখ ঢাকা’ কেন?

উত্তর: সাধারণ মানুষ প্রকৃত সত্য জানলেও ক্ষমতার কাঠামোর কারণে তাদের কথা প্রকাশ পায় না। এই অসহায় ও নীরব অবস্থাকেই ‘চোখমুখ ঢাকা’ বলা হয়েছে।

১৩. ‘আমরা ভিখারি বারোমাস’— এর তাৎপর্য কী?

উত্তর: সাধারণ মানুষ শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয়, সামাজিক ও মানসিক দিক থেকেও দীর্ঘদিন বঞ্চিত। তাদের এই স্থায়ী দৈন্য ও অসহায়তাকেই কবি ‘ভিখারি বারোমাস’ বলেছেন।

১৪. ‘পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে / পৃথিবী হয়তো গেছে মরে’— এর অর্থ কী?

উত্তর: যুদ্ধ ও সামাজিক অবক্ষয়ে মানুষের জীবনে বেঁচে থাকার অর্থটাই যখন হারিয়ে যায়, তখন পৃথিবীর অস্তিত্বও তার কাছে অর্থহীন বলে মনে হয়।

১৫. ‘তবু তো কজন আছি বাকি’— বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: সব প্রতিকূলতার মধ্যেও কিছু মানুষ এখনও মানবতা, বিবেক ও আশার প্রতি বিশ্বাস রাখেন। কবি সেই মানুষদের কথাই বলেছেন।

১৬. ‘হাতে হাত রেখে’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: ‘হাতে হাত রেখে’ বলতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া, পরস্পরের পাশে দাঁড়ানো এবং সম্মিলিতভাবে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাকে বোঝানো হয়েছে।

১৭. ‘বোমারু’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: যে বিমান বা যুদ্ধযান থেকে বোমা নিক্ষেপ করা হয়, তাকে বোমারু বলা হয়।

১৮. ‘শব’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: ‘শব’ শব্দের অর্থ মৃতদেহ।

১৯. ‘হিমানী’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: ‘হিমানী’ শব্দের অর্থ তুষার বা বরফ।

২০. কবিতায় সাধারণ মানুষের করণীয় কী বলা হয়েছে?

উত্তর: সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন ও মানবিক মানুষকে একত্রিত হয়ে অন্যায়, হিংসা ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

১. ‘আমাদের ঘর গেছে উড়ে’— উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: কবিতায় ‘ঘর’ শুধু একটি বসবাসের স্থান নয়, নিরাপত্তা, আশ্রয় ও স্বাভাবিক জীবনের প্রতীক। যুদ্ধ, দাঙ্গা ও হিংসার কারণে অসংখ্য সাধারণ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়। তাই ‘আমাদের ঘর গেছে উড়ে’ কথাটির মাধ্যমে কবি সাধারণ মানুষের গৃহহীনতা ও নিরাপত্তাহীনতার ছবি তুলে ধরেছেন।

২. ‘আমাদের পথ নেই কোনো’— ‘পথ’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর: এখানে ‘পথ’ বলতে শুধু চলার রাস্তা বোঝানো হয়নি। এর অর্থ হলো সংকট ও অনিশ্চয়তা থেকে বেরিয়ে স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনে ফিরে যাওয়ার উপায়। যুদ্ধ, হিংসা, সামাজিক অবক্ষয় ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাধারণ মানুষ সেই পথ হারিয়ে ফেলেছে।

৩. ‘আমাদের শিশুদের শব / ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে’— পঙ্ক্তিটির তাৎপর্য লেখো।

উত্তর: যুদ্ধ ও হিংসার কোনো বয়সের সীমা নেই। নিষ্পাপ শিশুরাও তার নির্মম শিকার হয়। কাছে ও দূরে ছড়িয়ে থাকা শিশুদের মৃতদেহের চিত্রের মাধ্যমে কবি যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীর অমানবিক ও বেদনাদায়ক বাস্তবতাকে প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে না পারার জন্য মানুষের অসহায়তাও এখানে ফুটে উঠেছে।

৪. ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’— কবি কেন এই আহ্বান জানিয়েছেন?

উত্তর: কবিতার চারদিকে বিপদ, হিংসা ও অনিশ্চয়তা। এই অবস্থায় একা মানুষের পক্ষে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কঠিন। তাই কবি মানুষকে বিচ্ছিন্নতা ভুলে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে এবং ঐক্যবদ্ধ হতে বলেছেন। তাঁর বিশ্বাস, মানবিক মানুষের সম্মিলিত শক্তিই সংকটের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

৫. ‘আমাদের ইতিহাস নেই’— কবির এই বক্তব্যের তাৎপর্য কী?

উত্তর: ইতিহাস সাধারণত ক্ষমতাবান শাসক ও বিজয়ীদের দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা হয়। ফলে সাধারণ শ্রমজীবী, দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের জীবনসংগ্রাম সেখানে যথাযথভাবে স্থান পায় না। কবি এই উপেক্ষিত মানুষের ইতিহাসহীনতার কথা বলেছেন।

৬. ‘আমরা ভিখারি বারোমাস’— এর অন্তর্নিহিত অর্থ কী?

উত্তর: কবি এখানে শুধু অর্থের অভাবের কথা বলেননি। শোষণ, বঞ্চনা, নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক অবহেলার কারণে সাধারণ মানুষ মানসিক ও সামাজিকভাবেও দরিদ্র হয়ে পড়েছে। তাদের স্থায়ী অসহায়তাকে ‘ভিখারি বারোমাস’ বলা হয়েছে।

৭. ‘আমাদের কথা কে বা জানে’— কেন বলা হয়েছে?

উত্তর: সমাজের সাধারণ মানুষের দুঃখ, চাহিদা ও সংগ্রাম ক্ষমতাবানদের ইতিহাসে প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে। তাদের জীবন নিয়ে খুব কমই আলোচনা হয়। তাই কবি প্রশ্ন তুলেছেন— এই অসংখ্য সাধারণ মানুষের কথা আদৌ কে জানে?

৮. ‘পৃথিবী হয়তো গেছে মরে’— কবির এই সংশয়ের কারণ কী?

উত্তর: যুদ্ধ, হিংসা, গৃহহীনতা ও সামাজিক অবক্ষয়ে মানুষের জীবন যখন দিশাহীন হয়ে পড়ে, তখন বেঁচে থাকার অর্থও হারিয়ে যায়। এই চরম হতাশা থেকেই কবির মনে পৃথিবী সত্যিই মৃত হয়ে গেছে কি না, সেই সংশয় জন্মেছে।

৯. ‘তবু তো কজন আছি বাকি’— এই কথায় কবির কী আশাবাদ প্রকাশ পেয়েছে?

উত্তর: চারদিকে ধ্বংস ও হতাশা থাকলেও সব মানুষ মানবিকতা হারায়নি। এখনও কিছু মানুষ বিবেক, ভালোবাসা ও ন্যায়বোধকে ধরে রেখেছেন। তাঁদের ঐক্যবদ্ধ শক্তির মধ্যেই কবি ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখেছেন।

১০. ‘হাতে হাত রেখে’ পঙ্ক্তিটির অন্তর্নিহিত অর্থ কী?

উত্তর: ‘হাতে হাত রাখা’ বলতে পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও সম্মিলিত প্রতিরোধকে বোঝানো হয়েছে। কবি চান বিপন্ন মানুষ নিজেদের বিচ্ছিন্ন না রেখে একসঙ্গে দাঁড়াক এবং মানবতাবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুক।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

১. ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় সমকালীন পৃথিবীর যে সংকটের ছবি ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো।

উত্তর: শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় সমকালীন পৃথিবীর গভীর সংকট অত্যন্ত তীব্রভাবে প্রকাশিত হয়েছে। কবির চোখে সাধারণ মানুষের চারপাশে শুধু বিপদ ও অনিশ্চয়তা। ডানদিকে ধ্বস, বাঁদিকে গিরিখাদ, মাথার ওপর বোমারু এবং পায়ের কাছে হিমানীর বাঁধ— এই চিত্রগুলির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার সর্বব্যাপী প্রতিকূলতা বোঝানো হয়েছে।

যুদ্ধ ও হিংসার কারণে মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস হচ্ছে, মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়ছে। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, নিষ্পাপ শিশুরাও এই হিংসার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। তাদের মৃতদেহ ছড়িয়ে থাকার চিত্র মানবতার গভীর সংকটকে সামনে নিয়ে আসে।

এর পাশাপাশি কবি সাধারণ মানুষের ইতিহাসহীনতা ও সামাজিক বঞ্চনার কথাও বলেছেন। ক্ষমতাবানদের নিয়ন্ত্রিত ইতিহাসে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। ফলে তারা নিজেরাই নিজেদের ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

তবে কবিতাটি কেবল হতাশার কবিতা নয়। এই অন্ধকারের মধ্যেও কবি কিছু মানুষের মধ্যে মানবিকতা ও বিবেকের অস্তিত্ব দেখতে পান। তাই তাঁর শেষ আহ্বান— মানুষ যেন আরও দৃঢ়ভাবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং সম্মিলিতভাবে সংকটের মোকাবিলা করে।

২. ‘বেঁধে বেঁধে থাকা’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর: ‘বেঁধে বেঁধে থাকা’ কথাটি কবিতার অন্যতম কেন্দ্রীয় ভাব। এর মাধ্যমে কবি কোনো বাহ্যিক বন্ধনের কথা বলেননি; তিনি মানুষের পারস্পরিক ঐক্য, সহযোগিতা ও সংহতির কথা বলেছেন।

যে পৃথিবীতে সাধারণ মানুষ যুদ্ধ, হিংসা, আগ্রাসন, গৃহহীনতা এবং নিরাপত্তাহীনতার শিকার, সেখানে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা আরও দুর্বল করে দেয়। তাই কবি চান মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়াক। বিপন্ন মানুষের সম্মিলিত শক্তিই পারে অন্যায় ও ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে।

‘বেঁধে বেঁধে থাকা’ তাই একই সঙ্গে ঐক্য, সংহতি, মানবিকতা এবং প্রতিরোধের প্রতীক। কবির মতে, কিছু শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এখনও বেঁচে আছেন; তাঁদের একত্রিত হওয়ার মধ্যেই নতুন ভবিষ্যতের সম্ভাবনা রয়েছে।

৩. ‘আমাদের ইতিহাস নেই’— এই বক্তব্যের মাধ্যমে কবি কোন বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন?

উত্তর: কবি দেখিয়েছেন যে প্রচলিত ইতিহাসে সাধারণ মানুষের জীবন ও সংগ্রাম প্রায়ই উপেক্ষিত। ইতিহাসের ক্ষমতা সাধারণত শাসক ও শক্তিশালী গোষ্ঠীর হাতে থাকে। ফলে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিই ইতিহাসের প্রধান বক্তব্য হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে শ্রমজীবী, দরিদ্র, গৃহহীন ও বঞ্চিত মানুষের জীবনসংগ্রাম ইতিহাসের পাতায় যথাযথভাবে স্থান পায় না। তাদের দুঃখ, ক্ষুধা, ভয়, পরাজয় ও প্রতিরোধের কাহিনি অনেক সময় অদৃশ্য থেকে যায়।

এই ইতিহাসহীনতা আসলে সাধারণ মানুষের সামাজিক বঞ্চনারই আরেকটি রূপ। কবি এই বক্তব্যের মাধ্যমে ক্ষমতাকেন্দ্রিক ইতিহাসচর্চার সীমাবদ্ধতা এবং সাধারণ মানুষের বিস্মৃত অস্তিত্বের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

৪. ‘আমাদের শিশুদের শব / ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে’— পঙ্ক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: এই পঙ্ক্তিতে যুদ্ধ ও হিংসার সবচেয়ে নির্মম দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। শিশু হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতীক। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীতে সেই শিশুরাই যখন হিংসার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করে, তখন শুধু একটি জীবন নয়, একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎও ধ্বংস হয়ে যায়।

‘কাছে দূরে’ কথাটির মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে এই বিপর্যয় কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হিংসা ও যুদ্ধের প্রভাব সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা দিতে না পারা সভ্যতার গভীর ব্যর্থতা।

তাই পঙ্ক্তিটির মধ্যে একদিকে যেমন তীব্র বেদনা রয়েছে, অন্যদিকে তেমনই রয়েছে মানবতার প্রতি একটি গভীর প্রশ্ন— যে সমাজ তার শিশুদের রক্ষা করতে পারে না, সেই সমাজের ভবিষ্যৎ কোথায়?

৫. ‘আমাদের পথ নেই আর’— কবিতার সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে উক্তিটির তাৎপর্য আলোচনা করো।

উত্তর: ‘আমাদের পথ নেই আর’ কথাটি সাধারণ মানুষের চরম অসহায়তার প্রকাশ। কবিতায় দেখা যায়, মানুষের ডানদিকে ধ্বস, বাঁদিকে গিরিখাদ, মাথার ওপর বোমারু এবং পায়ে হিমানীর বাঁধ। অর্থাৎ জীবনের প্রতিটি দিকেই কোনো না কোনো বিপদ অপেক্ষা করছে।

যুদ্ধ ও হিংসায় ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, মানুষ গৃহহীন হয়েছে, শিশুরা প্রাণ হারিয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ইতিহাসও হারিয়ে গেছে। ফলে তারা শুধু বাস্তব জীবনের পথই নয়, ভবিষ্যতের দিশাও হারিয়েছে।

তবু কবি সম্পূর্ণ হতাশ নন। ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ আহ্বানের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন যে ঐক্য ও মানবিক সংহতির মধ্যেই নতুন পথ তৈরি হতে পারে। তাই ‘পথ নেই’ কথাটি শেষ সত্য নয়; বরং নতুন পথ খোঁজার প্রয়োজনীয়তারই ইঙ্গিত।

৬. কবিতাটিতে কবির প্রতিবাদী ও আশাবাদী মানসিকতার পরিচয় দাও।

উত্তর: কবিতার অধিকাংশ অংশজুড়ে যুদ্ধ, হিংসা, গৃহহীনতা, শিশুমৃত্যু, ইতিহাসহীনতা ও সাধারণ মানুষের অসহায়তার ছবি রয়েছে। এর মাধ্যমে কবি অন্যায় ও মানবতাবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ প্রকাশ করেছেন।

কিন্তু এই প্রতিবাদ নিছক হতাশায় শেষ হয়নি। কবি লক্ষ্য করেছেন, এখনও কিছু মানুষ মানবিকতা ও বিবেককে ধরে রেখেছেন। তাই তিনি তাঁদের একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ মূলত সেই আশাবাদী আহ্বান।

অর্থাৎ কবির প্রতিবাদ ধ্বংসের বিরুদ্ধে এবং তাঁর আশা মানুষের ঐক্যের মধ্যে। এই দুইয়ের সমন্বয়েই কবিতাটি একটি মানবিক ও প্রত্যয়ী বক্তব্যে পরিণত হয়েছে।

কবিতার মূল ভাব এক নজরে

‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার মূল বক্তব্য হলো— যুদ্ধ, হিংসা, শোষণ ও সামাজিক অবক্ষয়ে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হলেও মানবিক ঐক্য ও সম্মিলিত প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে সেই অন্ধকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সম্ভব।

কবিতার বিষয় মূল বক্তব্য
ডান পাশে ধ্বস প্রতিনিয়ত বিপদের আশঙ্কা
বাঁয়ে গিরিখাদ গভীর অনিশ্চয়তা ও পতনের সম্ভাবনা
মাথায় বোমারু যুদ্ধ ও প্রাণহানির আশঙ্কা
পায়ে হিমানীর বাঁধ জীবনের পথে কঠিন বাধা
ঘর গেছে উড়ে গৃহহীনতা ও আশ্রয়হীনতা
শিশুদের শব যুদ্ধের নির্মমতা ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস
ইতিহাস নেই সাধারণ মানুষের বঞ্চিত ইতিহাস
ভিখারি বারোমাস দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক ও মানসিক দৈন্য
বেঁধে বেঁধে থাকা ঐক্য, সংহতি ও সম্মিলিত প্রতিরোধ

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট

মনে রাখবে: এই কবিতার প্রশ্ন প্রস্তুত করার সময় শুধু পঙ্ক্তির অর্থ মুখস্থ করলেই হবে না। ‘আমাদের’ কারা, ‘পথ’ কীসের প্রতীক, ‘ইতিহাস নেই’ কেন বলা হয়েছে, ‘ভিখারি বারোমাস’-এর অর্থ কী এবং ‘বেঁধে বেঁধে থাকা’-র তাৎপর্য— এই বিষয়গুলি ভালোভাবে বুঝে পড়া দরকার।

বিশেষ করে যুদ্ধ ও হিংসার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্দশা, শিশুদের মৃত্যু, গৃহহীনতা, ইতিহাসহীনতা এবং মানুষের ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা— এই পাঁচটি বিষয় কবিতার কেন্দ্রীয় ভাব বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Frequently Asked Questions

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি – Shankha Ghosh | Madhyamik Bengali Question and Answer - West Bengal Board of Secondary Education