পথের দাবী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ
বাংলা সাহিত্যকর্ম। মাধ্যমিকের বাংলা পরীক্ষার্থীদের জন্য এই পাঠটি
বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে পাঠের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তরগুলি
সহজ, পরিষ্কার ও পরীক্ষাভিত্তিকভাবে সাজানো হয়েছে।
দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য প্রশ্নগুলিকে
MCQ, অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর, সংক্ষিপ্ত উত্তর এবং রচনাধর্মী
প্রশ্নোত্তর—এই বিভিন্ন ভাগে সাজানো হয়েছে।
পথের দাবী সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচয়
শ্রেণি
দশম শ্রেণি / মাধ্যমিক
বিষয়
বাংলা
পাঠ
পথের দাবী
লেখক
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
পথের দাবী পাঠে অপূর্ব, সব্যসাচী মল্লিক, গিরীশ মহাপাত্র,
নিমাইবাবু, জগদীশবাবু এবং রামদাস তলওয়ারকর প্রমুখ চরিত্রের উপস্থিতি
গুরুত্বপূর্ণ। বিপ্লবী সন্দেহভাজন সব্যসাচী মল্লিককে কেন্দ্র করে পুলিশের
অনুসন্ধান ও তদন্ত এই অংশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
গুরুত্বপূর্ণ: নিচের প্রশ্নোত্তরগুলি প্রদত্ত পাঠ্যসামগ্রীর
ভিত্তিতে আরও সহজ, পরিষ্কার ও শিক্ষার্থীবান্ধব ভাষায় সাজানো হয়েছে।
MCQ প্রশ্ন ও উত্তর
মাধ্যমিক বাংলা পথের দাবী MCQ
১. থানায় নিজেদের জিনিসপত্র নিয়ে বসে থাকা লোকেরা প্রধানত কারা ছিল?
(ক) বর্মিরা
(খ) বাঙালিরা
(গ) ইংরেজরা
(ঘ) হিন্দিভাষী লোকেরা
উত্তর: (খ) বাঙালিরা
২. থানায় নিজেদের জিনিসপত্র নিয়ে কতজন বাঙালি বসে ছিল?
(ক) আটজন
(খ) ছয়জন
(গ) পাঁচজন
(ঘ) সাতজন
উত্তর: (খ) ছয়জন
৩. জগদীশবাবু কী কী জিনিস পরীক্ষা করছিলেন?
(ক) একটি টিনের বাক্স
(খ) ছোট-বড় পুঁটলি
(গ) একটি টিনের বাক্স ও বিছানা
(ঘ) একটি টিনের বাক্স এবং ছোট-বড় পুঁটলি
উত্তর: (ঘ) একটি টিনের বাক্স এবং ছোট-বড় পুঁটলি
৪. পুলিশ যাকে বিশেষভাবে সন্দেহ করেছিল, তাকে কোথায় রাখা হয়েছিল?
(ক) একটি ঘরে
(খ) লক-আপে
(গ) খাঁচায়
(ঘ) দড়ি দিয়ে বেঁধে
উত্তর: (ক) একটি ঘরে
৫. জগদীশবাবুর পেশা কী ছিল?
(ক) তেল কারখানার কর্মী
(খ) পুলিশ অফিসার
(গ) ডাক্তার
(ঘ) পিওন
উত্তর: (খ) পুলিশ অফিসার
৬. পুলিশ যাকে খুঁজছিল, তাকে কী বলে সন্দেহ করা হয়েছিল?
(ক) বিপ্লবী
(খ) বিশ্বাসঘাতক
(গ) খুনি
(ঘ) অপরাধী
উত্তর: (ক) বিপ্লবী
৭. থানায় বসে থাকা বাঙালিরা কোথায় কাজ করত?
(ক) বার্মা অয়েল কোম্পানিতে
(খ) বার্মা পুলিশে
(গ) ভামো শহরে
(ঘ) মান্দালয়ে
উত্তর: (ক) বার্মা অয়েল কোম্পানিতে
৮. পাঠ অনুযায়ী বার্মা অয়েল কোম্পানি কোথায় অবস্থিত ছিল?
(ক) উত্তর বার্মায়
(খ) মেইকতিলায়
(গ) ভামোতে
(ঘ) রেঙ্গুনে
উত্তর: (ক) উত্তর বার্মায়
৯. রাজনৈতিক সন্দেহভাজন ব্যক্তিটির নাম কী?
(ক) গিরীশ মহাপাত্র
(খ) নিমাইবাবু
(গ) সব্যসাচী মল্লিক
(ঘ) রামদাস তলওয়ারকর
উত্তর: (গ) সব্যসাচী মল্লিক
১০. গিরীশ মহাপাত্রের বয়স কত ছিল?
(ক) ৫০–৫২ বছর
(খ) ২০–২৫ বছর
(গ) ৩০–৩২ বছর
(ঘ) ৬০–৭০ বছর
উত্তর: (গ) ৩০–৩২ বছর
১১. গিরীশ মহাপাত্রের মুখের সবচেয়ে লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
(ক) তাঁর কথা বলার ধরন
(খ) তাঁর উজ্জ্বল চোখ
(গ) তাঁর হাসি
(ঘ) তাঁর ফর্সা গায়ের রং
উত্তর: (খ) তাঁর উজ্জ্বল চোখ
১২. গিরীশ মহাপাত্রের চোখের সঙ্গে কিসের তুলনা করা হয়েছিল?
(ক) চতুর চোখ
(খ) শান্ত ও কোমল চোখ
(গ) নিস্তেজ ও বিষণ্ণ চোখ
(ঘ) গভীর জলাশয়ের সঙ্গে
উত্তর: (ঘ) গভীর জলাশয়ের সঙ্গে
১৩. গিরীশ মহাপাত্রের চেহারা ও পোশাক কেমন ছিল?
(ক) পরিপাটি ও পরিষ্কার
(খ) নোংরা ও অস্বস্তিকর
(গ) সাধারণ
(ঘ) অদ্ভুত ও হাস্যকর
উত্তর: (ঘ) অদ্ভুত ও হাস্যকর
১৪. গিরীশ মহাপাত্রের চুল থেকে গন্ধ আসার কারণ কী ছিল?
(ক) গাঁজা
(খ) প্রসাধনী
(গ) অনেকদিন স্নান না করা
(ঘ) লেবুর তেল
উত্তর: (ঘ) লেবুর তেল
১৫. গিরীশ মহাপাত্রের পকেটে কী পাওয়া গিয়েছিল?
(ক) দুই টাকা ও কিছু পয়সা
(খ) দুই টাকা ও কয়েক আনা
(গ) এক টাকা ও কয়েকটি পয়সা
(ঘ) এক টাকা ও কয়েক আনা
উত্তর: (গ) এক টাকা ও কয়েকটি পয়সা
১৬. কে বলেছিলেন যে তিনি অন্যদের দেন, কিন্তু নিজে সেবন করেন না?
(ক) নিমাইবাবু
(খ) জগদীশবাবু
(গ) অপূর্ব
(ঘ) গিরীশ মহাপাত্র
উত্তর: (ক) নিমাইবাবু
১৭. কথোপকথনে ‘বুড়ো’ বলে কাকে বোঝানো হয়েছে?
(ক) জগদীশবাবু
(খ) অপূর্ব
(গ) গিরীশ মহাপাত্র
(ঘ) নিমাইবাবু
উত্তর: (গ) গিরীশ মহাপাত্র
১৮. মহাপাত্রের সঙ্গে কী কী জিনিস ছিল?
(ক) একটি ভাঙা টিনের বাক্স এবং মাদুরে মোড়ানো নোংরা বিছানা
(খ) একটি ভাঙা টিনের বাক্স ও পুঁটলি
(গ) একটি টিনের বাক্স ও কাপড়ের ব্যাগ
(ঘ) কাপড়ের ব্যাগ ও নোংরা বিছানা
উত্তর: (ক) একটি ভাঙা টিনের বাক্স এবং মাদুরে মোড়ানো নোংরা বিছানা
১৯. অপূর্বের অন্যমনস্কতা কে লক্ষ্য করেছিলেন?
(ক) গিরীশ মহাপাত্র
(খ) রামদাস তলওয়ারকর
(গ) তেওয়ারি
(ঘ) নিমাইবাবু
উত্তর: (খ) রামদাস তলওয়ারকর
২০. কাকে অত্যন্ত কর্মদক্ষ মহিলা বলা হয়েছিল?
(ক) তলওয়ারকরের স্ত্রী
(খ) অপূর্বের স্ত্রী
(গ) ওপরতলায় বসবাসকারী খ্রিস্টান মহিলা
(ঘ) অপূর্বের বোন
উত্তর: (গ) ওপরতলায় বসবাসকারী খ্রিস্টান মহিলা
২১. তেওয়ারি কোথায় বর্মি নাচ দেখতে গিয়েছিল?
(ক) ফায়া
(খ) শোয়েবো
(গ) মেইকতিলা
(ঘ) ইয়েনানজাউং
উত্তর: (ক) ফায়া
২২. সব্যসাচী মল্লিকের পেশা কী ছিল?
(ক) ডাক্তার
(খ) পুলিশ অফিসার
(গ) কেরানি
(ঘ) শিক্ষক
উত্তর: (ক) ডাক্তার
২৩. গিরীশ মহাপাত্রের জামার রং কী ছিল?
(ক) গেরুয়া
(খ) রামধনু রঙের
(গ) সাদা
(ঘ) নীল
উত্তর: (খ) রামধনু রঙের
২৪. পাঠে ‘চেজিং ওয়াইল্ড গিজ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) শিকার করা
(খ) অসম্ভব কিছু পাওয়ার চেষ্টা করা
(গ) শারীরিক কারণে দৌড়ানো
(ঘ) যা পাওয়া যায় না তা দাবি করা
উত্তর: (ঘ) যা পাওয়া যায় না তা দাবি করা
২৫. পাঠ অনুযায়ী কোন বিষয়টি অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল?
(ক) সময়মতো খাওয়া
(খ) পুলিশের হাতে মার খাওয়া
(গ) অপমানিত হওয়া
(ঘ) বিশৃঙ্খলা
উত্তর: (গ) অপমানিত হওয়া
২৬. ঊর্ধ্বতন অফিসার অপূর্বকে কোথায় পাঠিয়েছিলেন?
(ক) ভামো
(খ) মান্দালয়
(গ) উত্তর বার্মা
(ঘ) রেঙ্গুন
উত্তর: (ক) ভামো
২৭. অপূর্ব ও তলওয়ারকরের সঙ্গে ভামোতে কে গিয়েছিল?
(ক) অর্ডারলি ও পিওন
(খ) তেওয়ারি ও পিওন
(গ) তেওয়ারি ও অর্ডারলি
(ঘ) পিওন ও ঊর্ধ্বতন অফিসার
উত্তর: (খ) তেওয়ারি ও পিওন
২৮. পাঠে ‘ম্লেচ্ছ দেশ’ বলে কোন দেশকে বোঝানো হয়েছে?
(ক) ভারত
(খ) পাকিস্তান
(গ) ইংল্যান্ড
(ঘ) বার্মা
উত্তর: (ঘ) বার্মা
২৯. ‘ঠাকুর’ বলে কাকে বোঝানো হয়েছে?
(ক) তেওয়ারি
(খ) তলওয়ারকর
(গ) নিমাইবাবু
(ঘ) গিরীশ মহাপাত্র
উত্তর: (ক) তেওয়ারি
৩০. ‘বাবুসাহেব’ বলে কাকে সম্বোধন করা হয়েছে?
(ক) সব্যসাচী মল্লিক
(খ) অপূর্ব
(গ) ঊর্ধ্বতন অফিসার
(ঘ) তলওয়ারকর
উত্তর: (ঘ) তলওয়ারকর
৩১. ‘পথের দাবী’ কোন উপন্যাসের অংশ?
(ক) আরক্ষণীয়া
(খ) পথের দাবী
(গ) সব্যসাচী
(ঘ) পল্লীসমাজ
উত্তর: (খ) পথের দাবী
৩২. অপূর্ব কাকে ‘কাকাবাবু’ বলে ডাকত?
(ক) জগদীশবাবু
(খ) গিরীশ মহাপাত্র
(গ) নিমাইবাবু
(ঘ) রামদাস তলওয়ারকর
উত্তর: (গ) নিমাইবাবু
৩৩. পাঠের প্রেক্ষিতে ‘ওয়াইল্ড গিজ’ বলতে কী বোঝায়?
(ক) বন্য পাখি
(খ) চোর ও ডাকাত
(গ) বিপ্লবী
(ঘ) ইংরেজ অফিসার
উত্তর: (খ) চোর ও ডাকাত
৩৪. গিরীশের দুই বন্ধু কোথা থেকে আসবে বলে আশা করা হয়েছিল?
(ক) বার্মা
(খ) ভামো
(গ) রেঙ্গুন
(ঘ) ইয়েনানজাউং
উত্তর: (ঘ) ইয়েনানজাউং
৩৫. কে অপূর্বকে বলেছিলেন, ‘তুমি ইউরোপীয় নও’?
(ক) রেঙ্গুনের সাব-ইন্সপেক্টর
(খ) বার্মার সাব-ইন্সপেক্টর
(গ) ঊর্ধ্বতন অফিসার
(ঘ) বার্মার জেলা অফিসার
উত্তর: (গ) ঊর্ধ্বতন অফিসার
৩৬. অপূর্ব কোথায় আবার গিরীশ মহাপাত্রের সঙ্গে দেখা করেছিল?
(ক) থানায়
(খ) রেলস্টেশনে
(গ) বন্দরে
(ঘ) বিমানবন্দরে
উত্তর: (খ) রেলস্টেশনে
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
১. থানায় ঢুকে অপূর্ব কী দেখেছিল?
থানার সামনের হলঘরে প্রায় ছয়জন বাঙালিকে বসে থাকতে দেখেছিল অপূর্ব। পুলিশ তাদের জিনিসপত্র তল্লাশি করছিল।
২. অন্য ঘরে কাকে রাখা হয়েছিল?
অন্য ঘরে সন্দেহভাজন বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিককে রাখা হয়েছিল। তিনি গিরীশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশে ছিলেন।
৩. কাশতে কাশতে যে লোকটি এসেছিল সে কে?
লোকটি ছিল গিরীশ মহাপাত্র, যিনি আসলে ছদ্মবেশী সব্যসাচী মল্লিক।
৪. গিরীশ মহাপাত্র কাশতে শুরু করলে কী আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল?
তাঁর দুর্বল শরীর ও প্রবল কাশি দেখে মনে হয়েছিল যে তাঁর জীবন হয়তো শেষের দিকে চলে এসেছে।
৫. অপূর্ব কেন মনে করেছিল যে ‘খেলা চলবে না’?
গিরীশের অদ্ভুত পোশাক ও অসুস্থ চেহারা তার পরিচয় গোপন করতে সাহায্য করলেও তার বুদ্ধিদীপ্ত ও তীক্ষ্ণ চোখ আসল সব্যসাচীর পরিচয় পুরোপুরি আড়াল করতে পারেনি।
৬. গিরীশের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়া সত্ত্বেও কেন মনে হয়েছিল যে সে এখনও প্রাণবন্ত?
তার চোখে এমন গভীর প্রাণশক্তি ও দৃঢ়তা প্রকাশ পাচ্ছিল, যা তার দুর্বল শরীরের সঙ্গে একেবারেই মানানসই ছিল না।
৭. নিমাইবাবু অপূর্বকে কী বিষয়ে একমত হতে বলেছিলেন?
নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্রের অদ্ভুত পোশাক ও চেহারার দিকে অপূর্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাঁর পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত হতে বলেছিলেন।
৮. গিরীশ মহাপাত্রের জামিনদার হতে কে চেয়েছিল?
অপূর্ব গিরীশ মহাপাত্রের জামিনদার হতে চেয়েছিল, কারণ সে বিশ্বাস করেছিল যে গিরীশ সব্যসাচী মল্লিক হতে পারে না।
৯. নিমাইবাবু নীরব ছিলেন কেন?
তিনি সব্যসাচীর বুদ্ধি ও দক্ষতা সম্পর্কে জানতেন এবং গিরীশ সম্পূর্ণ নির্দোষ কি না তা নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন না। তাই তিনি নীরব ছিলেন।
১০. গিরীশ মহাপাত্রের পকেট ও কোমরের পকেট থেকে কী পাওয়া গিয়েছিল?
এক টাকা ও কিছু পয়সা, লোহার কম্পাস, কাঠের স্কেল, বিড়ি, দেশলাই এবং গাঁজার কলকি পাওয়া গিয়েছিল।
১১. গিরীশ মহাপাত্রকে উদার ব্যক্তি বলা হয়েছিল কেন?
সে দাবি করেছিল যে গাঁজার কলকিটি তার নিজের জন্য নয়, অন্যদের প্রয়োজনে রেখেছিল। এই কথার জন্যই তাকে রসিকতা করে উদার বলা হয়েছিল।
১২. ‘বুড়ো’ কী পরামর্শ দিয়েছিল?
নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্রকে গাঁজা ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কারণ তাঁর শরীর এমনিতেই দুর্বল ছিল।
১৩. জগদীশবাবু কেন হেসেছিলেন?
গিরীশ মহাপাত্রের চুলে ব্যবহৃত লেবুর তেলের তীব্র গন্ধে পরিস্থিতি হাস্যকর হয়ে উঠেছিল। সেই কারণেই জগদীশবাবু হেসেছিলেন।
১৪. অপূর্ব কেন তলওয়ারকরের বাড়িতে থাকতে রাজি হয়েছিল?
তলওয়ারকরের স্ত্রী পরিবারের সদস্যরা ফিরে না আসা পর্যন্ত অপূর্বকে তাঁর তৈরি খাবার ও জলখাবার গ্রহণ করার অনুরোধ করেছিলেন। তাই অপূর্ব সেখানে থাকতে রাজি হয়েছিল।
১৫. অপূর্বের ‘বন্ধু’ কাকে বলা হয়েছিল?
ওপরতলায় থাকা খ্রিস্টান মহিলাকে অপূর্বের বন্ধু বলা হয়েছিল, কারণ চুরির সময় তিনি অপূর্বের অধিকাংশ জিনিসপত্র রক্ষা করেছিলেন।
১৬. তেওয়ারি বর্মি নাচ দেখতে যাওয়ার সময় কী ঘটেছিল?
তেওয়ারি ফায়ায় নাচ দেখতে যাওয়ার সময় অপূর্বের বাসস্থানে চুরি হয়েছিল।
১৭. নিমাইবাবু কে ছিলেন?
নিমাইবাবু ছিলেন একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসার এবং অপূর্বের বাবার বন্ধু।
১৮. অপূর্ব কেন সব্যসাচীর প্রতি বেশি আকৃষ্ট বোধ করেছিল?
নিমাইবাবু অপূর্বের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হলেও অপূর্ব সব্যসাচীর প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়েছিল তাঁর দেশপ্রেম ও দেশের জন্য আত্মত্যাগের মানসিকতার কারণে।
১৯. কোন ঘটনায় অপূর্ব গভীরভাবে অপমানিত হয়েছিল?
কোনো অপরাধ না করেও ইংরেজ যুবকদের হাতে অপমানিত ও শারীরিকভাবে হেনস্থা হয়েছিল অপূর্ব। তার প্রতিবাদও যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।
২০. অপূর্বকে তার ঊর্ধ্বতন অফিসার কী পরিদর্শন করতে বলেছিলেন?
ভামো, মান্দালয়, শোয়েবো, মেইকতিলা ও প্রোমের বিভিন্ন অফিস পরিদর্শন করতে বলা হয়েছিল।
২১. রেলস্টেশনে অপূর্ব হঠাৎ কাকে দেখিয়ে দিয়েছিল?
সে হঠাৎ গিরীশ মহাপাত্রকে দেখিয়ে দিয়েছিল, যাকে সে আগে থানায় দেখেছিল।
২২. গিরীশ মহাপাত্রকে পুলিশ কেন জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল?
পুলিশ সব্যসাচী মল্লিককে খুঁজছিল এবং গিরীশকে তাঁর পরিচয় ও ওই এলাকায় উপস্থিতির কারণে সন্দেহ করেছিল।
২৩. অপূর্বের ঘটনা শুনে রামদাস আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিল কেন?
অপূর্বের প্রতি যে অন্যায় আচরণ করা হয়েছিল, তা শুনে রামদাস গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছিল।
২৪. পুলিশের প্রসঙ্গে ‘ওয়াইল্ড গিজ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছিল?
এখানে ‘ওয়াইল্ড গিজ’ বলতে সেই বিপ্লবী সন্দেহভাজনদের বোঝানো হয়েছিল, যাদের পুলিশ খুঁজে বেড়াচ্ছিল।
২৫. ট্রেনে শান্তিতে ঘুমানোর ব্যাপারে অপূর্বের ধারণা ভুল প্রমাণিত হল কেন?
প্রথম শ্রেণিতে ভ্রমণ করলেও বারবার পুলিশি তদন্ত ও ভারতীয় হওয়ার কারণে অপমানজনক আচরণের ফলে তার শান্তিতে ভ্রমণের আশা পূরণ হয়নি।
২৬. গিরীশ মহাপাত্র কী ধরনের পোশাক পরেছিল?
সে রামধনু রঙের জাপানি রেশমের জামা, গাঢ় সূক্ষ্ম কাপড়, রঙিন মোজা ও পালিশ করা জুতো পরেছিল। তার হাতে হরিণের শিংয়ের হাতলযুক্ত একটি ছড়িও ছিল।
২৭. গিরীশ মহাপাত্রকে তল্লাশি করে কী পাওয়া গিয়েছিল?
এক টাকা ও কিছু পয়সা, লোহার কম্পাস, কাঠের মাপার স্কেল, বিড়ি, দেশলাই এবং গাঁজার কলকি পাওয়া গিয়েছিল।
২৮. গিরীশের চোখ অপূর্বকে মুগ্ধ করেছিল কেন?
তাঁর চোখ ছিল অত্যন্ত গভীর ও বুদ্ধিদীপ্ত। সেই চোখ তাঁর দুর্বল চেহারার সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
২৯. নিমাইবাবু কেন বলেছিলেন যে গিরীশের সাজপোশাকের রুচি এখনও অটুট আছে?
তাঁর সুন্দর করে সাজানো চুল, সুগন্ধি তেল, রঙিন রেশমের পোশাক, নকশাদার রুমাল, রঙিন মোজা, পালিশ করা জুতো এবং আড়ম্বরপূর্ণ ছড়ি তাঁর সাজপোশাকের প্রতি প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।
৩০. সব্যসাচীর বার্মায় আসা সম্পর্কে পুলিশের ধারণা কী ছিল?
পুলিশ মনে করেছিল যে সব্যসাচী বার্মায় এসেছে। তাই তাকে খুঁজে বের করার জন্য তারা অনুসন্ধান ও তল্লাশি আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
৩১. অপূর্ব গিরীশকে নিয়ে হাসলেও তলওয়ারকর কেন হাসেনি?
তলওয়ারকর সন্দেহ করেছিল যে গিরীশ আসলে বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক হতে পারে। তাই সে অপূর্বের মতো বিষয়টিকে হাস্যকরভাবে নেয়নি।
৩২. থানায় আটক বাঙালিরা কেন রেঙ্গুনে এসেছিল?
তারা উত্তর বার্মার বার্মা অয়েল কোম্পানির তেলক্ষেত্রে মেকানিক হিসেবে কাজ করত। কিন্তু স্থানীয় আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে অন্য কাজের সন্ধানে রেঙ্গুনে এসেছিল।
৩৩. গিরীশ কেন বলেছিল যে সে নিজে গাঁজা সেবন করে না?
সে বলেছিল যে রাস্তায় কলকিটি কুড়িয়ে পেয়েছিল এবং এমন বন্ধুদের জন্য রেখে দিয়েছিল, যাদের প্রয়োজন হতে পারে।
৩৪. জগদীশবাবু কেন রেগে গিয়েছিলেন?
গিরীশ গাঁজা সেবনের কথা অস্বীকার করলেও জগদীশবাবু তাঁর কথা বিশ্বাস করেননি। গিরীশের চেহারা ও আচরণ তাঁর দাবির সঙ্গে মিলছিল না।
৩৫. নিমাইবাবু গিরীশের সাজপোশাক নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন কেন?
গিরীশের দুর্বল শারীরিক অবস্থার সঙ্গে তার আড়ম্বরপূর্ণ পোশাক ও সাজসজ্জার বৈপরীত্য নিমাইবাবুর কাছে বেশ হাস্যকর লেগেছিল।
৩৬. নিমাইবাবু গিরীশের পকেটে কোন জিনিসটি থাকার কারণ জানতে চেয়েছিলেন?
তিনি গিরীশের পকেটে পাওয়া গাঁজার কলকিটির কথা বলেছিলেন।
৩৭. অপূর্ব কী দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল?
অপূর্ব সেই দেশপ্রেমিক বিপ্লবীদের পাশে থাকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল, যাদের সে নিজের মানুষ বলে মনে করত এবং যারা অত্যাচারিত মানুষের অপমান ও দুঃখ থেকে মুক্তির জন্য সংগ্রাম করছিল।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
পথের দাবী থেকে গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
১. গিরীশ মহাপাত্রের চেহারা বর্ণনা করো।
গিরীশ মহাপাত্র দেখতে রোগা ও শারীরিকভাবে দুর্বল ছিল। রোদে থাকার কারণে তার গায়ের রং তামাটে হয়ে গিয়েছিল। সে সহজেই কাশত এবং তাকে গুরুতর অসুস্থ বলে মনে হতো। তবে তার মুখের সবচেয়ে লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য ছিল তার অসাধারণ চোখ। এই দুর্বল চেহারার আড়ালে আসলে ছদ্মবেশী সব্যসাচী মল্লিক ছিল।
২. গিরীশ মহাপাত্রের চোখ কেমন ছিল?
তার চোখ ছিল অত্যন্ত গভীর ও তীক্ষ্ণ। সেগুলিকে শুধু বড়, ছোট, উজ্জ্বল বা নিস্তেজ—কোনো একটি বিশেষণে বোঝানো কঠিন ছিল। চোখের গভীরতা তার বুদ্ধি ও অন্তর্নিহিত শক্তির পরিচয় দিত। ছদ্মবেশ তার পরিচয় আড়াল করলেও চোখ তার প্রকৃত ব্যক্তিত্বের কিছুটা প্রকাশ করে দিত।
৩. গিরীশের সাজপোশাক থেকে কীভাবে বোঝা যায় যে তার পোশাকের প্রতি রুচি এখনও অটুট ছিল?
তার যত্ন করে আঁচড়ানো চুল, সুগন্ধি লেবুর তেল, রামধনু রঙের জাপানি রেশমের পোশাক, নকশাদার রুমাল, রঙিন মোজা, পালিশ করা জুতো এবং আড়ম্বরপূর্ণ ছড়ি—সবকিছুই তার সাজপোশাকের প্রতি প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।
৪. গিরীশ মহাপাত্রের চুলের বিন্যাস কেমন ছিল?
সামনের দিকে তার চুল তুলনামূলকভাবে লম্বা এবং পিছনের দিকে প্রায় অনুপস্থিত ছিল। চুলে প্রচুর তেল দিয়ে সুন্দরভাবে সিঁথি করা ছিল। লেবুর তেলের তীব্র গন্ধ পরিস্থিতিকে আরও হাস্যকর করে তুলেছিল।
৫. অপূর্ব কেন নিমাইবাবুকে আর কোনো প্রশ্ন না করে গিরীশকে ছেড়ে দিতে বলেছিল?
অপূর্ব সব্যসাচীকে একজন অত্যন্ত শিক্ষিত ও কৃতী ব্যক্তি হিসেবে জানত। গিরীশের আচরণ, চেহারা ও চালচলন তার পরিচিত সব্যসাচীর সঙ্গে একেবারেই মিলছিল না। তাই অপূর্ব নিশ্চিত হয়েছিল যে গিরীশ সেই বিপ্লবী নয়, যাকে পুলিশ খুঁজছে।
৬. গিরীশের পকেটে কী পাওয়া গিয়েছিল এবং তার ব্যাখ্যা কতটা বিশ্বাসযোগ্য ছিল?
তার পকেট থেকে একটি গাঁজার কলকি পাওয়া গিয়েছিল। গিরীশ দাবি করেছিল যে সে গাঁজা সেবন করে না এবং রাস্তায় কলকিটি পেয়ে বন্ধুদের জন্য রেখেছিল। নিমাইবাবু তার এই ব্যাখ্যাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করেননি।
৭. ‘বুড়ো’ কে ছিল এবং সে কী পরামর্শ দিয়েছিল?
‘বুড়ো’ বলতে নিমাইবাবুকে বোঝানো হয়েছে। তিনি গিরীশ মহাপাত্রকে গাঁজা সেবন না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কারণ তার শরীর আগে থেকেই দুর্বল ছিল।
৮. গিরীশকে একই সঙ্গে উদার ও মিথ্যাবাদী বলা হয়েছিল কেন?
গিরীশ দাবি করেছিল যে সে নিজে গাঁজা সেবন করে না, অন্যদের জন্য তা রাখে। জগদীশবাবু এই কথাকে ব্যঙ্গ করে তাকে উদার বলেছিলেন এবং তার দাবি বিশ্বাস না করায় তাকে মিথ্যাবাদীও বলেছিলেন।
৯. সব্যসাচীর খবর পাওয়ার পর পুলিশ কেন তল্লাশি বাড়িয়ে দিয়েছিল?
পুলিশ বিশ্বাস করেছিল যে রাজনৈতিক সন্দেহভাজন সব্যসাচী মল্লিক বার্মায় এসেছে। তাই তারা বার্মা ও রেঙ্গুনে থাকা বাঙালিদের ওপর নজরদারি এবং তল্লাশি বাড়িয়ে দিয়েছিল।
১০. রামদাসের প্রশ্নে অপূর্ব অবাক হয়েছিল কেন?
রামদাস হঠাৎ অপূর্বকে জিজ্ঞাসা করেছিল, সে বাড়ি থেকে কোনো চিঠি পেয়েছে কি না এবং বাড়ির সবাই ভালো আছে কি না। সব্যসাচীকে নিয়ে চিন্তিত অপূর্বের কাছে এই ব্যক্তিগত প্রশ্নটি অপ্রত্যাশিত ছিল।
১১. খ্রিস্টান মহিলাকে কর্মদক্ষ বলা হয়েছিল কেন?
অপূর্বের ঘরে চুরি হওয়ার সময় ওপরতলায় থাকা খ্রিস্টান মহিলা তার অধিকাংশ জিনিসপত্র রক্ষা করেছিলেন। তিনি ছড়িয়ে থাকা জিনিসগুলি গুছিয়ে দিয়েছিলেন এবং কী কী চুরি হয়েছে তার একটি সঠিক তালিকাও তৈরি করেছিলেন। তাঁর দক্ষতা অপূর্বকে মুগ্ধ করেছিল।
১২. সব্যসাচীর খবর পাওয়ার পর পুলিশ কী করেছিল?
পুলিশ বার্মা ও রেঙ্গুনের বাঙালিদের তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল এবং নজরদারি বাড়িয়েছিল। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল সন্দেহভাজন বিপ্লবীকে খুঁজে বের করা।
১৩. গিরীশের বর্ণনা দেওয়ার সময় অপূর্ব কেন হেসেছিল?
গিরীশের অদ্ভুত পোশাক, চেহারা ও আচরণ অপূর্বের কাছে হাস্যকর মনে হয়েছিল। একই সঙ্গে পুলিশ যে ব্যক্তিকে খুঁজছে, তাকে চিনতে না পারায় ঘটনাটিও তার কাছে মজার লেগেছিল।
১৪. অপূর্ব নিমাইবাবুকে নিয়ে লজ্জা বোধ করেছিল কেন?
নিমাইবাবু ছিলেন অপূর্বের বাবার বন্ধু এবং পরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। কিন্তু তিনি ঔপনিবেশিক পুলিশের হয়ে কাজ করতেন এবং ভারতীয় বিপ্লবীদের অনুসরণ করতেন। এই বিষয়টি অপূর্বের মনে দ্বন্দ্ব ও লজ্জার সৃষ্টি করেছিল।
১৫. কোন অন্যায় ঘটনায় অপূর্ব গভীরভাবে আহত হয়েছিল?
কোনো অপরাধ না করেও ইংরেজ যুবকেরা তাকে রেলস্টেশন থেকে শারীরিকভাবে তাড়িয়ে দিয়েছিল। প্রতিবাদ করার পরেও ইংরেজ স্টেশনমাস্টার তার প্রতি ন্যায়সঙ্গত আচরণ করেননি। এই অপমান অপূর্বকে গভীরভাবে আঘাত করেছিল।
১৬. কোন ঘটনাকে নিয়মিত ঘটে যাওয়া ঘটনা বলা হয়েছে?
ভারতীয়দের অপমানিত হওয়ার ঘটনাকে বোঝানো হয়েছে। অপূর্বকে অন্যায়ভাবে মারধর করে রেলস্টেশন থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ছিল ঔপনিবেশিক সময়ে ভারতীয়দের ওপর চলা অন্যায় আচরণের একটি উদাহরণ।
১৭. অপূর্বকে কেন বিভিন্ন অফিসে পাঠানো হয়েছিল?
তার ঊর্ধ্বতন অফিসার চেয়েছিলেন যে অপূর্ব ভামো, মান্দালয়, শোয়েবো, মেইকতিলা ও প্রোমের বিভিন্ন অফিসের সমস্যা ও বিশৃঙ্খলা সম্পর্কে পরিচিত হোক এবং ভবিষ্যতে দায়িত্ব সামলাতে পারে।
১৮. রেলস্টেশনে অপূর্ব চমকে উঠেছিল কেন?
সে হঠাৎ গিরীশ মহাপাত্রকে রেলস্টেশনে দেখতে পেয়েছিল। এর আগে তাকে থানায় রাজনৈতিক সন্দেহভাজন হিসেবে দেখেছিল বলে দ্বিতীয়বার হঠাৎ দেখা হওয়ায় অপূর্ব অবাক হয়েছিল।
১৯. গিরীশ কেন বলেছিল যে তাকে অযথা হয়রানি করা হয়েছে?
পুলিশ তাকে সব্যসাচী মল্লিক সন্দেহে আটক করে তল্লাশি করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সন্দেহের পক্ষে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ না পাওয়ায় গিরীশ মনে করেছিল যে তাকে অকারণে হয়রানি করা হয়েছে।
২০. রামদাস যখন বলেছিল যে সে অপূর্বকে আগে কোথাও দেখেছে, তখন তার অর্থ কী?
রামদাসের মনে হয়েছিল যে সে গিরীশ মহাপাত্রকে আগে কোথাও দেখেছে। সে সেই জায়গাটি মনে করার চেষ্টা করছিল। তার কথায় গিরীশের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়তে থাকে।
২১. অপূর্বকে পুলিশ অফিসারের হুমকির তাৎপর্য কী?
এই মন্তব্য ঔপনিবেশিক পুলিশের অহংকার এবং ভারতীয়দের প্রতি তাদের বৈষম্যমূলক আচরণ প্রকাশ করে। যাত্রাপথে বারবার বিরক্ত করার প্রতিবাদ করায় অপূর্বকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
২২. অপূর্বের পরিবারের সঙ্গে নিমাইবাবুর কী সম্পর্ক ছিল?
নিমাইবাবু ছিলেন অপূর্বের বাবার বন্ধু। অপূর্বের বাবা নিমাইবাবুকে পুলিশে চাকরি পেতেও সাহায্য করেছিলেন। এই পারিবারিক সম্পর্কের কারণে নিমাইবাবুকে নিয়ে অপূর্বের মনে জটিল অনুভূতি তৈরি হয়েছিল।
২৩. অপূর্ব গিরীশকে সমর্থন করলেও নিমাইবাবু নীরব ছিলেন কেন?
নিমাইবাবু জানতেন যে সব্যসাচী অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও দক্ষ ব্যক্তি। গিরীশের চেহারা সব্যসাচীর সঙ্গে না মিললেও তিনি সম্পূর্ণ নিশ্চিত ছিলেন না। তাই অপূর্বের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে একমত না হয়ে নীরব ছিলেন।
২৪. গিরীশ গাঁজা সেবনের কথা অস্বীকার করেছিল কেন?
তার জিনিসপত্রের মধ্যে গাঁজার কলকি পাওয়া যাওয়ার পর সে গাঁজা সেবনের কথা অস্বীকার করে। সে দাবি করেছিল যে কলকিটি কুড়িয়ে পেয়েছিল এবং অন্যদের জন্য রেখে দিয়েছিল।
২৫. অপূর্বের অভিজ্ঞতার কথা শুনে রামদাস আবেগপ্রবণ হয়েছিল কেন?
অপূর্ব কোনো অপরাধ না করেও মারধর ও অপমানের শিকার হয়েছিল। পরে প্রতিবাদ করেও ন্যায্য আচরণ পায়নি। এই অন্যায় ঘটনা রামদাসকে গভীরভাবে বিচলিত করেছিল।
২৬. পুলিশ ‘ওয়াইল্ড গিজ ধরতে ব্যস্ত’—এই কথাটির অর্থ কী?
এখানে ‘ওয়াইল্ড গিজ’ বলতে বিপ্লবী সন্দেহভাজনদের বোঝানো হয়েছে। সাধারণ অপরাধীদের পরিবর্তে পুলিশ সব্যসাচীর মতো বিপ্লবীদের খুঁজে বেড়াতে প্রচুর সময় ও সরকারি সম্পদ ব্যয় করছিল।
রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর
১. সব্যসাচী মল্লিক সম্পর্কে কী জানা যায় এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় কী ঘটেছিল?
সব্যসাচী মল্লিককে একজন অত্যন্ত শিক্ষিত, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক বিপ্লবী হিসেবে
উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন,
বিদেশি চিকিৎসাবিদ্যার ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন এবং একাধিক ভাষা সম্পর্কে
জ্ঞান রাখতেন।
পুলিশ সন্দেহ করেছিল যে গিরীশ মহাপাত্র আসলে সব্যসাচী মল্লিক। তাই
গিরীশকে নিমাইবাবুর সামনে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দুর্বল
শরীর, অদ্ভুত পোশাক, অসুস্থ চেহারা এবং কিছুটা অদ্ভুত আচরণ দেখে মনে
হচ্ছিল যে সে পুলিশের খোঁজা অত্যন্ত দক্ষ বিপ্লবী হতে পারে না।
তল্লাশির সময় তার কাছে কম্পাস, স্কেল, টাকা, বিড়ি, দেশলাই এবং গাঁজার
কলকি-সহ বেশ কিছু সাধারণ জিনিস পাওয়া যায়। গাঁজার কলকি সম্পর্কে তার
ব্যাখ্যাও খুব বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। তবুও পুলিশ তার পরিচয়
সব্যসাচী হিসেবে নিশ্চিত করতে পারেনি এবং শেষ পর্যন্ত তাকে ছেড়ে দেয়।
২. গিরীশ মহাপাত্রের চেহারা ও পোশাক বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করো।
গিরীশ মহাপাত্রকে তিরিশের কোঠায় থাকা এক রোগা ও শারীরিকভাবে দুর্বল
ব্যক্তি হিসেবে দেখা যায়। রোদে থাকার কারণে তার গায়ের রং তামাটে হয়ে
গিয়েছিল। সামান্যতেই সে কাশত এবং তাকে গুরুতর অসুস্থ বলে মনে হতো।
কিন্তু তার চোখ ছিল অত্যন্ত গভীর ও তীক্ষ্ণ। এই চোখের মধ্যে এমন
বুদ্ধিমত্তা ও শক্তির প্রকাশ ছিল, যা তার বাহ্যিক চেহারার সঙ্গে
একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
তার চুল যত্ন করে সাজানো ছিল এবং তাতে প্রচুর সুগন্ধি লেবুর তেল
ব্যবহার করা হয়েছিল। সে রামধনু রঙের জাপানি রেশমের পোশাক পরেছিল।
পকেট থেকে নকশাদার রুমাল দেখা যাচ্ছিল। তার পায়ে ছিল রঙিন মোজা ও
পালিশ করা জুতো। হাতে ছিল হরিণের শিংয়ের হাতলযুক্ত একটি ছড়ি।
তার এই অদ্ভুত ও আড়ম্বরপূর্ণ সাজ ছিল এমনভাবে তৈরি, যাতে তার আসল
পরিচয় সম্পূর্ণভাবে আড়াল থাকে। ছদ্মবেশ তার পরিচয়কে বিভ্রান্ত করলেও
তার চোখের গভীরতা তার প্রকৃত ব্যক্তিত্বের আভাস দিয়ে যাচ্ছিল।
৩. রেলস্টেশনে অপূর্বের সঙ্গে গিরীশ মহাপাত্রের সাক্ষাৎ বর্ণনা করো।
অপূর্ব সরকারি কাজে রেঙ্গুন থেকে ভামোর দিকে যাচ্ছিল। ট্রেন ছাড়ার
ঠিক আগে সে হঠাৎ রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে গিরীশ মহাপাত্রকে দেখতে পায়।
এর আগে থানায় রাজনৈতিক সন্দেহভাজন হিসেবে গিরীশকে দেখেছিল অপূর্ব।
দ্বিতীয়বার গিরীশকে দেখে অপূর্বের দৃষ্টি সঙ্গে সঙ্গে তার দিকে চলে
যায়। গিরীশও তাকে চিনতে পারে এবং থানায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের কথা
মনে করিয়ে দেয়। রামদাস তলওয়ারকরও গিরীশকে লক্ষ্য করে এবং তার মনে
হয় যে এই লোকটিকে সে আগে কোথাও দেখেছে।
ফলে রেলস্টেশনের এই সাক্ষাৎ গিরীশ মহাপাত্রের প্রকৃত পরিচয়কে আরও
রহস্যময় করে তোলে এবং সব্যসাচী মল্লিককে খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে
পুলিশের ব্যর্থতাকে আরও স্পষ্ট করে।
দ্রুত রিভিশন টেবিল
| বিষয় |
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য |
| লেখক |
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় |
| পাঠ |
পথের দাবী |
| প্রধান বিপ্লবী চরিত্র |
সব্যসাচী মল্লিক |
| ছদ্মপরিচয় |
গিরীশ মহাপাত্র |
| ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসার |
নিমাইবাবু |
| পুলিশ অফিসার |
জগদীশবাবু |
| অপূর্বের সহকর্মী ও বন্ধু |
রামদাস তলওয়ারকর |
| গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় সাক্ষাৎ |
রেলস্টেশন |
| ছদ্মবেশের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য |
অদ্ভুত পোশাক ও তীক্ষ্ণ, গভীর চোখ |
পথের দাবী পরীক্ষার প্রস্তুতির টিপস
পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় প্রথমে চরিত্রগুলির পরিচয় ভালোভাবে মনে রাখো।
বিশেষ করে গিরীশ মহাপাত্র, সব্যসাচী মল্লিক, নিমাইবাবু, অপূর্ব এবং
রামদাস তলওয়ারকরের ভূমিকা পরিষ্কারভাবে বুঝে নিতে হবে।
এরপর গিরীশ মহাপাত্রের চেহারা ও পোশাক, পুলিশের তদন্ত, অপূর্বের
অভিজ্ঞতা এবং রেলস্টেশনে গিরীশের সঙ্গে দ্বিতীয় সাক্ষাতের ঘটনাগুলি
ভালোভাবে পড়তে হবে।
দ্রুত রিভিশনের জন্য প্রথমে MCQ প্রশ্নগুলি অনুশীলন করা যেতে পারে। এরপর
অতি সংক্ষিপ্ত ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর পড়ে রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর
নিজের ভাষায় লেখার অভ্যাস করা উচিত। শুধু মুখস্থ না করে ঘটনাগুলির
ধারাবাহিকতা বুঝে পড়লে উত্তর লেখা অনেক সহজ হবে।
রিভিশনে বিশেষ গুরুত্ব দাও:
চরিত্র পরিচয়, গিরীশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশ, সব্যসাচী মল্লিক,
পুলিশের তদন্ত, অপূর্বের অভিজ্ঞতা, রেলস্টেশনের সাক্ষাৎ এবং
গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য ও ঘটনাগুলি।