Abhishek কবিতা – মাইকেল মধুসূদন দত্ত | মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Bengali Abhishek Question and Answer
‘অভিষেক’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের মহাকাব্য ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর প্রথম সর্গ। এই কাব্যাংশের কেন্দ্রে রয়েছেন রাবণপুত্র ইন্দ্রজিৎ বা মেঘনাদ। লঙ্কার সংকট, বীরবাহুর মৃত্যু, ছদ্মবেশী লক্ষ্মীর সংবাদ, ইন্দ্রজিতের আত্মধিক্কার, যুদ্ধযাত্রা, প্রমীলার সঙ্গে বিদায় এবং শেষ পর্যন্ত সেনাপতি হিসেবে তাঁর অভিষেক—এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে কাব্যাংশটি এগিয়েছে।
মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচে অভিষেক MCQ, অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর সহজ ভাষায় সাজানো হয়েছে। মূল বিষয়গুলি অক্ষুণ্ণ রেখে প্রশ্নোত্তরগুলির ভাষা ও presentation নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছে।
অভিষেক কবিতার সংক্ষিপ্ত পরিচয়
অভিষেক কবিতার মূল বিষয়
‘অভিষেক’ কাব্যাংশে লঙ্কার যুদ্ধপরিস্থিতির এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে। বীরবাহুর মৃত্যুর পর স্বর্ণলঙ্কায় গভীর সংকট নেমে আসে। রাবণ শোকাহত হয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে ইন্দ্রজিৎ তখন প্রমোদকাননে বিলাসে মগ্ন। এই সময় ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশে দেবী লক্ষ্মী তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে লঙ্কার দুর্দশা এবং বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ জানান।
সংবাদ শুনে ইন্দ্রজিতের মধ্যে প্রবল আত্মগ্লানি ও ক্রোধ জন্ম নেয়। তিনি বুঝতে পারেন, লঙ্কার এমন সংকটের সময় তাঁর পক্ষে বিলাসে মগ্ন থাকা উচিত নয়। তিনি নিজেকে ধিক্কার দেন এবং শত্রুপক্ষকে পরাজিত করে নিজের ‘অপবাদ’ দূর করার সংকল্প করেন।
এরপর ইন্দ্রজিৎ যুদ্ধের সাজে সজ্জিত হয়ে লঙ্কার উদ্দেশে রওনা হন। পথে তাঁর স্ত্রী প্রমীলা তাঁকে থামিয়ে স্বামীবিরহের আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ইন্দ্রজিৎ তাঁকে আশ্বস্ত করে যুদ্ধযাত্রা করেন। শেষে রাবণের কাছে এসে তিনি রামচন্দ্রের পুনর্জীবন সম্পর্কে জানতে চান এবং যুদ্ধের অনুমতি প্রার্থনা করেন। রাবণ পুত্রস্নেহ ও রাজধর্মের দ্বন্দ্বে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ইন্দ্রজিৎকে সেনাপতি হিসেবে অভিষিক্ত করেন।
মূল সুর: ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে বীরত্ব, কর্তব্যবোধ, আত্মসমালোচনা, দেশরক্ষা, পিতৃভক্তি, পত্নীপ্রেম এবং সংকটের সময় নিজের দায়িত্ব উপলব্ধির বিষয়গুলি বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।
অভিষেক কবিতার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র
| চরিত্র | পরিচয় ও ভূমিকা |
|---|---|
| ইন্দ্রজিৎ / মেঘনাদ | রাবণ ও মন্দোদরীর পুত্র; কাব্যাংশের কেন্দ্রীয় বীর চরিত্র। |
| রাবণ | লঙ্কাধিপতি এবং ইন্দ্রজিতের পিতা; পুত্রস্নেহ ও রাজধর্মের দ্বন্দ্বে থাকা শাসক। |
| প্রমীলা | ইন্দ্রজিতের পত্নী; স্বামীর প্রতি গভীর প্রেম ও অনুরাগের পরিচয় দেন। |
| লক্ষ্মী | প্রভাষার ছদ্মবেশে ইন্দ্রজিতের কাছে এসে লঙ্কার সংকটের সংবাদ দেন। |
| বীরবাহু | ইন্দ্রজিতের প্রিয় বৈমাত্রেয় ভাই; তাঁর মৃত্যু থেকেই কাহিনির সংকট তীব্র হয়। |
| রামচন্দ্র / রাঘব | লঙ্কার শত্রুপক্ষের প্রধান বীর; তাঁর পুনর্জীবন ইন্দ্রজিতের বিস্ময়ের কারণ হয়। |
অভিষেক MCQ প্রশ্ন ও উত্তর
১. ‘অভিষেক’ কাব্যাংশটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া?
(A) তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
(B) মেঘনাদবধ কাব্য
(C) ব্রজাঙ্গনা কাব্য
(D) বীরাঙ্গনা কাব্য
২. ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ প্রথম প্রকাশিত হয় কোন সালে?
(A) ১৮৫৭
(B) ১৮৬১
(C) ১৮৬৫
(D) ১৮৭৩
৩. ‘অভিষেক’ কোন সর্গের অন্তর্গত?
(A) প্রথম সর্গ
(B) দ্বিতীয় সর্গ
(C) সপ্তম সর্গ
(D) নবম সর্গ
৪. ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এ মোট কতটি সর্গ?
(A) সাতটি
(B) আটটি
(C) নয়টি
(D) দশটি
৫. ‘বীরেন্দ্রকেশরী’ কাকে বলা হয়েছে?
(A) রাবণ
(B) রামচন্দ্র
(C) ইন্দ্রজিৎ
(D) কুম্ভকর্ণ
৬. ‘মহাবাহু’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
(A) রাবণ
(B) ইন্দ্রজিৎ
(C) লক্ষ্মণ
(D) বীরবাহু
৭. মধুসূদন দত্তের সঙ্গে কোন ছন্দ বিশেষভাবে যুক্ত?
(A) মাত্রাবৃত্ত
(B) স্বরবৃত্ত
(C) অমিত্রাক্ষর
(D) পয়ার
৮. ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশে কে ইন্দ্রজিতের কাছে এসেছিলেন?
(A) সরস্বতী
(B) দুর্গা
(C) লক্ষ্মী
(D) চণ্ডী
৯. ‘অম্বুরাশি-সুতা’ কে?
(A) লক্ষ্মী
(B) সরস্বতী
(C) প্রমীলা
(D) চিত্রাঙ্গদা
১০. ইন্দ্রজিতের প্রিয় ভাই বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ কে দিয়েছিলেন?
(A) রাবণ
(B) প্রমীলা
(C) ছদ্মবেশী লক্ষ্মী
(D) বিভীষণ
১১. বীরবাহু কার পুত্র?
(A) রাবণ ও চিত্রাঙ্গদার
(B) রাবণ ও মন্দোদরীর
(C) বিভীষণ ও সরমার
(D) রাম ও সীতার
১২. ‘মহাশোকী রাক্ষসাধিপতি’ কাকে বলা হয়েছে?
(A) ইন্দ্রজিৎ
(B) রাবণ
(C) কুম্ভকর্ণ
(D) বিভীষণ
১৩. ইন্দ্রজিৎ রাত্রিকালীন যুদ্ধে কাকে পরাজিত করেছিলেন?
(A) লক্ষ্মণকে
(B) রামচন্দ্রকে
(C) বিভীষণকে
(D) সুগ্রীবকে
১৪. ‘বৈরীদল’ শব্দের অর্থ কী?
(A) বন্ধুদল
(B) মিত্রদল
(C) শত্রুদল
(D) সৈন্যদল
১৫. ‘রক্ষঃ-চূড়ামণি’ বলতে কী বোঝায়?
(A) রাক্ষসকুলের শিরোমণি
(B) রাক্ষসকুলের রাজা
(C) রাক্ষসকুলের সৈন্য
(D) রাক্ষসকুলের পুরোহিত
১৬. রোষে কে কুসুমদাম ছিঁড়ে ফেলেছিলেন?
(A) রাবণ
(B) রামচন্দ্র
(C) ইন্দ্রজিৎ
(D) কুম্ভকর্ণ
১৭. ‘কুণ্ডল’ শব্দের অর্থ কী?
(A) নূপুর
(B) কর্ণভূষণ
(C) কঙ্কণ
(D) কণ্ঠহার
১৮. ‘বামা’ শব্দের অর্থ কী?
(A) নারী
(B) দেবী
(C) রাক্ষস
(D) বীর
১৯. ‘দশাননাত্মজ’ কে?
(A) রাম
(B) বিভীষণ
(C) ইন্দ্রজিৎ
(D) লক্ষ্মণ
২০. ইন্দ্রজিৎ তাড়াতাড়ি কী আনতে বলেছিলেন?
(A) হাতি
(B) ঘোড়া
(C) রথ
(D) পালকি
২১. ‘রথীন্দ্রবর’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
(A) শ্রেষ্ঠ রথী বা বীর যোদ্ধা
(B) শ্রেষ্ঠ রাজা
(C) দেবরাজ
(D) রাক্ষসরাজ
২২. ‘হৈমবতীসুত’ কে?
(A) গণেশ
(B) কার্তিকেয়
(C) অর্জুন
(D) ইন্দ্র
২৩. ‘বৃহন্নলারূপী কিরীটি’ কে?
(A) রাবণ
(B) ইন্দ্রজিৎ
(C) অর্জুন
(D) লক্ষ্মণ
২৪. বৃহন্নলারূপী অর্জুন কাকে সঙ্গে নিয়ে গোধন উদ্ধার করেছিলেন?
(A) বিরাটপুত্রকে
(B) পবনপুত্রকে
(C) রাবণপুত্রকে
(D) চিত্রাঙ্গদাপুত্রকে
২৫. গোধন উদ্ধারের সঙ্গে কোন বৃক্ষের প্রসঙ্গ যুক্ত?
(A) বটবৃক্ষ
(B) শমীবৃক্ষ
(C) নিমবৃক্ষ
(D) কদমবৃক্ষ
২৬. ইন্দ্রজিতের রথের চাকার সঙ্গে কিসের তুলনা করা হয়েছে?
(A) রামধনুর ছটা
(B) বিজলির ছটা
(C) সূর্যের আলো
(D) চাঁদের আলো
২৭. ‘ইন্দ্রচাপরূপী’ বলতে কী বোঝায়?
(A) মেঘরূপী
(B) রামধনুরূপী
(C) জ্যোৎস্নারূপী
(D) বজ্ররূপী
২৮. ইন্দ্রজিতের রথের গতি কিসের মতো?
(A) হস্তীর মতো
(B) তুরঙ্গমের মতো
(C) ব্যাঘ্রের মতো
(D) পাখির মতো
২৯. ‘হেমলতা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(A) স্বর্ণলতা
(B) মাধবীলতা
(C) অপরাজিতা
(D) সন্ধ্যামণি
৩০. ‘কিঙ্করী’ শব্দের অর্থ কী?
(A) কিন্নরী
(B) সেবিকা
(C) রাজকন্যা
(D) দেবী
৩১. ‘গুণনিধি’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
(A) রাবণ
(B) রামচন্দ্র
(C) ইন্দ্রজিৎ
(D) পবন
৩২. ইন্দ্রজিতের পত্নী কে?
(A) সীতা
(B) চিত্রাঙ্গদা
(C) প্রমীলা
(D) নিকষা
৩৩. ‘কল্যাণী’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
(A) প্রমীলা
(B) লক্ষ্মী
(C) সরমা
(D) চিত্রাঙ্গদা
৩৪. ইন্দ্রজিৎ সমরে কাকে নাশ করতে চলেছিলেন?
(A) লক্ষ্মণকে
(B) রাঘবকে
(C) বিভীষণকে
(D) পবনকে
৩৫. ‘অম্বর’ শব্দের অর্থ কী?
(A) আগুন
(B) আকাশ
(C) বাতাস
(D) জল
৩৬. ‘শিঞ্জিনী’ বলতে কী বোঝায়?
(A) ধনুকের ছিলা
(B) অসি
(C) তূণ
(D) ঢাল
৩৭. ‘ধ্বজ’ শব্দের অর্থ কী?
(A) দামামা
(B) পতাকা
(C) আসন
(D) অস্ত্র
৩৮. ‘কর্পূরদল’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
(A) দেবতাবৃন্দ
(B) রাক্ষসবৃন্দ
(C) মানববৃন্দ
(D) বানরবৃন্দ
৩৯. রাঘব কে?
(A) রাবণ
(B) রামচন্দ্র
(C) লক্ষ্মণ
(D) বিভীষণ
৪০. রামচন্দ্রের পুনর্জীবন ইন্দ্রজিতের কাছে কেন বিস্ময়কর?
(A) তিনি যুদ্ধ করেননি
(B) ইন্দ্রজিৎ তাঁকে পূর্বে পরাজিত ও মৃত ভেবেছিলেন
(C) তিনি লঙ্কায় ছিলেন
(D) তিনি রাবণের বন্ধু ছিলেন
অভিষেক অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
১. ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর প্রথম সর্গের নাম কী?
উত্তর: ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর প্রথম সর্গের নাম ‘অভিষেক’।
২. ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে কার অভিষেকের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: রাবণপুত্র ইন্দ্রজিতের সেনাপতি পদে অভিষেকের কথা বলা হয়েছে।
৩. ইন্দ্রজিৎ কে?
উত্তর: ইন্দ্রজিৎ হলেন রাবণ ও মন্দোদরীর পুত্র মেঘনাদ। দেবরাজ ইন্দ্রকে জয় করার কারণে তিনি ‘ইন্দ্রজিৎ’ নামে পরিচিত হন।
৪. ‘বীরেন্দ্রকেশরী’ শব্দটি কাকে নির্দেশ করে?
উত্তর: ‘বীরেন্দ্রকেশরী’ বলতে বীরসিংহতুল্য রাবণপুত্র ইন্দ্রজিৎকে বোঝানো হয়েছে।
৫. প্রভাষার ছদ্মবেশে কে এসেছিলেন?
উত্তর: দেবী লক্ষ্মী প্রভাষার ছদ্মবেশ ধারণ করে ইন্দ্রজিতের কাছে এসেছিলেন।
৬. ইন্দ্রজিৎ ধাত্রীকে কী বলে সম্বোধন করেছিলেন?
উত্তর: ইন্দ্রজিৎ তাঁকে ‘মাতঃ’ বলে সম্বোধন করেছিলেন।
৭. বীরবাহু কে?
উত্তর: বীরবাহু ছিলেন রাবণ ও চিত্রাঙ্গদার পুত্র এবং ইন্দ্রজিতের প্রিয় বৈমাত্রেয় ভাই।
৮. ‘মহাশোকী রাক্ষসাধিপতি’ কাকে বলা হয়েছে?
উত্তর: পুত্র বীরবাহুর মৃত্যুশোকে শোকাহত লঙ্কাধিপতি রাবণকে ‘মহাশোকী রাক্ষসাধিপতি’ বলা হয়েছে।
৯. বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ শুনে ইন্দ্রজিৎ কেন বিস্মিত হয়েছিলেন?
উত্তর: ইন্দ্রজিৎ পূর্বে রামচন্দ্রকে যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত করেছিলেন। তাই সেই রামচন্দ্রের হাতে বীরবাহুর মৃত্যু তাঁর কাছে অত্যন্ত বিস্ময়কর মনে হয়েছিল।
১০. ‘ভগবতী’-র অপর নাম কী?
উত্তর: ‘ভগবতী’-র অপর নাম লক্ষ্মী।
১১. ইন্দ্রজিতের কুসুমদাম ছিঁড়ে ফেলার কারণ কী?
উত্তর: লঙ্কার দুর্দশা এবং বীরবাহুর মৃত্যুর সংবাদ শুনে নিজের বিলাসী অবস্থার জন্য ইন্দ্রজিৎ প্রচণ্ড আত্মগ্লানি ও ক্রোধ অনুভব করেন। সেই রোষেই তিনি কুসুমদাম ছিঁড়ে ফেলেন।
১২. ইন্দ্রজিৎ নিজেকে কেন ধিক্কার দিয়েছিলেন?
উত্তর: স্বর্ণলঙ্কা যখন শত্রুপক্ষের আক্রমণে বিপর্যস্ত এবং তাঁর পিতা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন তিনি নারীদের মাঝে প্রমোদকাননে বিলাসে মগ্ন ছিলেন। নিজের এই কর্তব্যহীনতার জন্য তিনি নিজেকে ধিক্কার দেন।
১৩. ‘বৈরীদল’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘বৈরীদল’ বলতে রামচন্দ্রের নেতৃত্বাধীন শত্রুপক্ষকে বোঝানো হয়েছে।
১৪. ‘বৃহন্নলারূপী কিরীটি’ কে?
উত্তর: ‘বৃহন্নলারূপী কিরীটি’ হলেন তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুন, যিনি অজ্ঞাতবাসের সময় বৃহন্নলা ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন।
১৫. অর্জুনকে ‘কিরীটি’ বলা হয় কেন?
উত্তর: দেবরাজ ইন্দ্রের দেওয়া কিরীট বা মুকুট ধারণ করতেন বলে অর্জুন ‘কিরীটি’ নামে পরিচিত।
১৬. ‘হৈমবতীসুত’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘হৈমবতীসুত’ বলতে দেবী পার্বতীর পুত্র কার্তিকেয়কে বোঝানো হয়েছে।
১৭. ইন্দ্রজিতের রথসজ্জা কেমন ছিল?
উত্তর: তাঁর রথ ছিল মেঘের মতো বর্ণের; চাকার সঙ্গে বিজলির ছটার তুলনা এবং পতাকার সঙ্গে রামধনুর তুলনা করা হয়েছে।
১৮. ইন্দ্রজিতের পথ কে রোধ করেছিলেন?
উত্তর: স্বর্ণলঙ্কায় যাওয়ার সময় তাঁর পত্নী প্রমীলা পথ রোধ করেছিলেন।
১৯. প্রমীলা ইন্দ্রজিতের কাছে কী প্রার্থনা করেছিলেন?
উত্তর: প্রমীলা স্বামীর কাছে তাঁকে ছেড়ে না যাওয়ার আকুতি জানান এবং দ্রুত ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি চান।
২০. ইন্দ্রজিৎ কাকে বধ করার জন্য যুদ্ধযাত্রা করেছিলেন?
উত্তর: তিনি রাঘব অর্থাৎ রামচন্দ্রকে বধ করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধযাত্রা করেছিলেন।
২১. ‘রক্ষঃ-চূড়ামণি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: রাক্ষসকুলের শ্রেষ্ঠ বা শিরোমণি। এই বিশেষণ ইন্দ্রজিতের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
২২. ‘অভিষেক’ নামটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: কাব্যাংশের শেষে রাবণ ইন্দ্রজিৎকে সেনাপতি পদে বরণ করেন। এই সেনাপতি পদে অভিষেকই কাব্যাংশটির নামকরণের প্রধান ভিত্তি।
অভিষেক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
১. ‘জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া’— মহাবাহু কে? তাঁর বিস্ময়ের কারণ কী?
উত্তর: ‘মহাবাহু’ বলতে ইন্দ্রজিৎকে বোঝানো হয়েছে। প্রভাষার ছদ্মবেশে লক্ষ্মীর কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন যে তাঁর প্রিয় ভাই বীরবাহু রামচন্দ্রের হাতে নিহত হয়েছে। অথচ ইন্দ্রজিৎ এর আগে রামচন্দ্রকে যুদ্ধে পরাজিত ও মৃত ভেবেছিলেন। তাই রামের হাতে বীরবাহুর মৃত্যু এবং রামের পুনর্জীবনের সংবাদ তাঁর কাছে অদ্ভুত ও বিস্ময়কর মনে হয়।
২. ‘রত্নাকর রত্নোত্তমা ইন্দিরা সুন্দরী’— ইন্দিরা সুন্দরী কে? তাঁর কথায় ইন্দ্রজিতের প্রতিক্রিয়া কী হয়?
উত্তর: ‘ইন্দিরা সুন্দরী’ বলতে দেবী লক্ষ্মীকে বোঝানো হয়েছে। তিনি প্রভাষার ছদ্মবেশে ইন্দ্রজিতের কাছে এসে লঙ্কার দুরবস্থা এবং বীরবাহুর মৃত্যুর কথা জানান। রামের পুনর্জীবনের কথাও তিনি জানান। এসব শুনে ইন্দ্রজিৎ প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ ও আত্মগ্লানিতে ভুগতে থাকেন। তিনি ফুলের মালা ছিঁড়ে ফেলেন, অলংকার দূরে ছুড়ে দেন এবং নিজেকে ধিক্কার দেন।
৩. ইন্দ্রজিতের আত্মধিক্কারের কারণ কী?
উত্তর: স্বর্ণলঙ্কা শত্রুপক্ষ দ্বারা আক্রান্ত, তাঁর ভাই বীরবাহু নিহত এবং পিতা রাবণ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন সময় ইন্দ্রজিৎ প্রমোদকাননে বিলাসে মগ্ন ছিলেন। নিজের এই অবস্থাকে তিনি কর্তব্যের প্রতি অবহেলা বলে মনে করেন। তাই তিনি নিজেকেই ধিক্কার দেন এবং শত্রুদের পরাজিত করে সেই অপবাদ দূর করার সংকল্প করেন।
৪. ‘বৃহন্নলারূপী কিরীটি’ প্রসঙ্গটি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘বৃহন্নলারূপী কিরীটি’ বলতে অর্জুনকে বোঝানো হয়েছে। অজ্ঞাতবাসের সময় অর্জুন বৃহন্নলা ছদ্মবেশে বিরাট রাজার রাজপ্রাসাদে ছিলেন। কৌরবরা বিরাট রাজার গোধন হরণ করলে তিনি রাজপুত্র উত্তরকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ করে গোধন উদ্ধার করেন। কবি ইন্দ্রজিতের যুদ্ধবীর্য বোঝাতে এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর তুলনা করেছেন।
৫. ‘নাশিতে তারকে মহাসুর’— এই প্রসঙ্গের তাৎপর্য কী?
উত্তর: এখানে তারকাসুর-বধের পৌরাণিক কাহিনির ইঙ্গিত রয়েছে। দেবসেনাপতি কার্তিকেয় তারকাসুরকে বধ করে দেবলোককে বিপদমুক্ত করেছিলেন। একইভাবে ইন্দ্রজিৎও শত্রুপক্ষকে পরাজিত করে লঙ্কাকে রক্ষা করতে প্রস্তুত। তাই তাঁর বীরত্ব বোঝাতে কবি কার্তিকেয়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
৬. ইন্দ্রজিতের রথের বর্ণনা দাও।
উত্তর: ইন্দ্রজিতের রথ ছিল অত্যন্ত দ্রুতগামী ও মেঘবর্ণ। রথের চাকায় বিজলির ছটার মতো দীপ্তি দেখা যেত এবং তার পতাকা ছিল রামধনুর মতো বর্ণময়। রথের দ্রুতগতি ও বীরের যুদ্ধোৎসাহ মিলিয়ে তাঁর লঙ্কাযাত্রা এক মহিমান্বিত দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।
৭. ‘কাঁপিলা লঙ্কা, কাঁপিলা জলধি’— লঙ্কা ও সমুদ্র কেঁপে উঠেছিল কেন?
উত্তর: ইন্দ্রজিৎ যুদ্ধযাত্রার সময় প্রবল বেগে রথে করে এগিয়ে যান এবং ধনুকের ছিলায় প্রচণ্ড টংকার দেন। তাঁর সেই ভয়ংকর যুদ্ধসজ্জা ও ধনুকের শব্দে লঙ্কা ও সমুদ্র পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। এর মাধ্যমে তাঁর অসীম বীরত্ব ও শক্তির প্রকাশ ঘটেছে।
৮. প্রমীলা ও ইন্দ্রজিতের সম্পর্কের পরিচয় দাও।
উত্তর: প্রমীলা ছিলেন ইন্দ্রজিতের পত্নী। স্বামীর প্রতি তাঁর গভীর প্রেম ও নির্ভরতা ছিল। যুদ্ধযাত্রার সময় তিনি ইন্দ্রজিতের পথ রোধ করে তাঁকে ছেড়ে যেতে অনুরোধ করেন। ইন্দ্রজিৎও তাঁকে ভালোবাসতেন এবং আশ্বস্ত করেন যে তিনি যুদ্ধ শেষে ফিরে আসবেন। তাঁদের কথোপকথনে দাম্পত্যপ্রেমের কোমল দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
৯. ‘এ মায়া, পিতঃ, বুঝিতে না পারি’— ইন্দ্রজিৎ কেন একথা বলেছিলেন?
উত্তর: ইন্দ্রজিৎ পূর্বে রামচন্দ্রকে যুদ্ধে পরাজিত করেছিলেন এবং মৃত ভেবেছিলেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন রামচন্দ্র আবার জীবিত হয়ে বীরবাহুকে হত্যা করেছেন। রামের এই পুনর্জীবনের কারণ তাঁর কাছে বোধগম্য ছিল না। তাই তিনি রাবণের কাছে এর রহস্য জানতে চেয়ে এই কথা বলেন।
অভিষেক রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
১. ‘অভিষেক’ কবিতাটি কোথা থেকে গৃহীত? নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: ‘অভিষেক’ কাব্যাংশটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর প্রথম সর্গ থেকে গৃহীত। প্রথম সর্গটির নামও ‘অভিষেক’.
কাব্যাংশের ঘটনাপ্রবাহের শেষদিকে ইন্দ্রজিৎ লঙ্কায় ফিরে এসে পিতা রাবণের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। লঙ্কার সংকটের সময় তিনি শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অনুমতি চান। রাবণ প্রথমে পুত্রস্নেহের কারণে তাঁকে যুদ্ধে পাঠাতে দ্বিধা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যথাযথ নিয়ম মেনে ইন্দ্রজিৎকে সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করেন।
অর্থাৎ কাব্যাংশের গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি ইন্দ্রজিতের সেনাপতি পদে অভিষেককে কেন্দ্র করে। তাই ‘অভিষেক’ নামটি বিষয়বস্তু ও ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ।
২. ‘জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া’— মহাবাহু কে? তাঁর বিস্ময়ের কারণ আলোচনা করো।
উত্তর: ‘মহাবাহু’ বলতে রাবণপুত্র ইন্দ্রজিৎকে বোঝানো হয়েছে। তাঁর অসাধারণ বাহুবল ও বীরত্বের জন্য কবি এই বিশেষণ ব্যবহার করেছেন।
ইন্দ্রজিৎ যখন প্রমোদকাননে বিলাসে মগ্ন, তখন প্রভাষার ছদ্মবেশে দেবী লক্ষ্মী তাঁর কাছে আসেন। তিনি ইন্দ্রজিতের কাছে লঙ্কার দুর্দশা এবং বীরবাহুর মৃত্যুর সংবাদ জানান। রামচন্দ্রের হাতে বীরবাহু নিহত হয়েছে—এই সংবাদই ইন্দ্রজিতের মনে গভীর বিস্ময় সৃষ্টি করে।
কারণ, ইন্দ্রজিৎ ইতিপূর্বে রামচন্দ্রকে যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত করেছিলেন বলে মনে করেছিলেন। সেই রাম কীভাবে আবার জীবিত হয়ে তাঁর প্রিয় ভাইকে হত্যা করলেন, তা তাঁর কাছে রহস্যজনক হয়ে ওঠে। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাই তাঁর বিস্ময়ের মূল কারণ।
৩. ইন্দিরা সুন্দরী কে? তাঁর কথায় মেঘনাদের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
উত্তর: ‘ইন্দিরা সুন্দরী’ বলতে দেবী লক্ষ্মীকে বোঝানো হয়েছে। তিনি প্রভাষার ছদ্মবেশ ধারণ করে ইন্দ্রজিতের কাছে উপস্থিত হন।
লক্ষ্মী ইন্দ্রজিতের কাছে বীরবাহুর মৃত্যু, লঙ্কার দুরবস্থা এবং রামচন্দ্রের পুনর্জীবনের সংবাদ দেন। এই সংবাদ শুনে ইন্দ্রজিতের মধ্যে প্রবল ক্রোধ ও আত্মগ্লানি জন্ম নেয়। তিনি উপলব্ধি করেন যে লঙ্কা যখন শত্রুপক্ষের দ্বারা আক্রান্ত, তখন তাঁর প্রমোদকাননে বিলাসে থাকা অত্যন্ত লজ্জার বিষয়।
তিনি ক্রোধে ফুলের মালা ছিঁড়ে ফেলেন এবং সোনার অলংকার ছুড়ে দেন। নিজেকে ধিক্কার দিয়ে শত্রুপক্ষকে পরাজিত করার সংকল্প করেন এবং যুদ্ধযাত্রার জন্য রথ প্রস্তুত করতে নির্দেশ দেন।
৪. ‘বৃহন্নলারূপী কিরীটি’ কে? তাঁর কীর্তির পরিচয় দাও।
উত্তর: ‘বৃহন্নলারূপী কিরীটি’ হলেন তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুন। দেবরাজ ইন্দ্রের দেওয়া কিরীট ধারণ করতেন বলে তাঁর নাম ‘কিরীটি’।
অজ্ঞাতবাসের সময় অর্জুন বৃহন্নলা ছদ্মবেশে বিরাট রাজার রাজপ্রাসাদে ছিলেন। তিনি রাজকন্যা উত্তরাকে নৃত্য ও গীত শিক্ষা দিতেন। সেই সময় কৌরবরা বিরাট রাজার গোধন হরণ করে নিয়ে যায়। রাজপুত্র উত্তরকে সঙ্গে নিয়ে বৃহন্নলারূপী অর্জুন যুদ্ধক্ষেত্রে যান এবং কৌরবদের পরাজিত করে গোধন উদ্ধার করেন।
ইন্দ্রজিতের বীরত্ব ও যুদ্ধসজ্জার মহিমা প্রকাশ করার জন্য কবি তাঁর সঙ্গে এই বীর অর্জুনের তুলনা করেছেন।
৫. ‘সাজিলা রথীন্দ্রবর বীর-আভরণে’— ইন্দ্রজিতের বীরসজ্জার তাৎপর্য আলোচনা করো।
উত্তর: ‘রথীন্দ্রবর’ অর্থ শ্রেষ্ঠ রথী বা শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা। এখানে ইন্দ্রজিৎকে এই বিশেষণে অভিহিত করা হয়েছে।
লঙ্কার দুর্দশার সংবাদ পাওয়ার পর ইন্দ্রজিতের অন্তরে বীরসত্তা জেগে ওঠে। তিনি প্রমোদকাননের বিলাস ত্যাগ করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হন। তাঁর এই বীরসজ্জাকে কবি দেবসেনাপতি কার্তিকেয় এবং বৃহন্নলারূপী অর্জুনের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
কার্তিকেয় যেমন তারকাসুরকে বধ করে দেবতাদের রক্ষা করেছিলেন, তেমনই অর্জুন গোধন উদ্ধার করে বিরাট রাজাকে রক্ষা করেছিলেন। ইন্দ্রজিতের মধ্যেও নিজের দেশ ও পিতৃভূমিকে রক্ষা করার প্রবল সংকল্প দেখা যায়। তাই এই তুলনা তাঁর বীরত্বকে আরও মহিমান্বিত করেছে।
৬. প্রমীলা কে? ইন্দ্রজিতের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের মূল বক্তব্য লেখো।
উত্তর: প্রমীলা ছিলেন ইন্দ্রজিতের পত্নী। ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে তিনি স্বামীর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দাম্পত্যনিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন।
ইন্দ্রজিৎ যুদ্ধযাত্রার জন্য প্রস্তুত হয়ে লঙ্কার দিকে রওনা হলে প্রমীলা তাঁর পথ রোধ করেন। স্বামীকে ছেড়ে থাকতে হবে ভেবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং জানতে চান, ইন্দ্রজিৎ তাঁকে রেখে কোথায় যাচ্ছেন। তাঁর কথায় স্বামীবিরহের আশঙ্কা স্পষ্ট।
ইন্দ্রজিৎ তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে তাঁদের ভালোবাসার বন্ধন অটুট। তিনি যুদ্ধ শেষে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রমীলার শুভকামনাই তাঁর যুদ্ধে বিজয়ের শক্তি হবে—এই বিশ্বাসও তিনি প্রকাশ করেন। ফলে তাঁদের কথোপকথনে প্রেম, কর্তব্য ও আত্মবিশ্বাস একসঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে।
৭. রাবণ ও ইন্দ্রজিতের কথোপকথনের মূল বিষয় নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: ইন্দ্রজিৎ লঙ্কায় ফিরে প্রথমে পিতা রাবণকে প্রণাম করেন এবং যুদ্ধের অনুমতি চান। তিনি জানতে চান, রামচন্দ্র কীভাবে আবার জীবিত হলেন। রামচন্দ্রকে পরাজিত করার আত্মবিশ্বাস তাঁর মধ্যে প্রবল ছিল। তাই তিনি আবার রামকে পরাজিত করার সংকল্প প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে রাবণ ছিলেন গভীরভাবে শোকাহত। বীরবাহু ও অন্যান্য বীরের মৃত্যুতে লঙ্কা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ইন্দ্রজিতের মতো শেষ শক্তিশালী বীরকেও যুদ্ধে পাঠাতে তাঁর পিতৃস্নেহ বাধা দিচ্ছিল। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, ইন্দ্রজিতেরও যদি কোনো ক্ষতি হয়, তাহলে লঙ্কার শেষ আশ্রয়টুকু নষ্ট হবে।
কিন্তু ইন্দ্রজিৎ নিজের বীরত্ব ও কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে পিতাকে আশ্বস্ত করেন। শেষ পর্যন্ত রাবণ তাঁর ইচ্ছা মেনে নেন এবং যথাযথ নিয়মে তাঁকে সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করেন।
৮. ‘অভিষেক’ কাব্যাংশ অবলম্বনে ইন্দ্রজিতের চরিত্র আলোচনা করো।
উত্তর: ‘অভিষেক’ কাব্যাংশের কেন্দ্রীয় চরিত্র ইন্দ্রজিৎ। মধুসূদনের হাতে তিনি শুধু রাক্ষসযোদ্ধা নন; তাঁর মধ্যে বীরত্ব, কর্তব্যবোধ, আত্মসমালোচনা, পিতৃভক্তি ও পত্নীপ্রেমের সমন্বয় ঘটেছে।
বীরত্ব
ইন্দ্রজিৎ অসাধারণ যোদ্ধা। রামচন্দ্রের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার আত্মবিশ্বাস তাঁর মধ্যে রয়েছে। সংকটের সময় তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে দ্বিধা করেন না।
কর্তব্যবোধ
লঙ্কার বিপদের কথা শুনেই তিনি বিলাস ত্যাগ করেন। পিতাকে যুদ্ধে যেতে দেখে নিজেকে অপরাধী মনে করেন এবং নিজেই যুদ্ধের দায়িত্ব নিতে চান।
আত্মসমালোচনা
নিজের ভুল উপলব্ধি করে তিনি নিজেকেই ধিক্কার দেন। এই আত্মসমালোচনা তাঁর চরিত্রকে আরও মানবিক করে তুলেছে।
দেশরক্ষা
শত্রুপক্ষের আক্রমণে লঙ্কা বিপন্ন জেনে তিনি দেশের সুরক্ষাকে ব্যক্তিগত সুখের উপরে স্থান দেন।
পিতৃভক্তি
রাবণের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা গভীর। পিতার কাছে প্রণাম করে যুদ্ধের অনুমতি নেওয়া এবং পিতাকে আশ্বস্ত করা তাঁর পিতৃভক্তির পরিচয়।
পত্নীপ্রেম
প্রমীলাকে বিদায় দেওয়ার সময় তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি ইন্দ্রজিতের কোমল মানবিক দিকটি প্রকাশ করে।
৯. প্রমীলার চরিত্র আলোচনা করো।
উত্তর: প্রমীলা ‘অভিষেক’ কাব্যাংশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নারীচরিত্র। তিনি ইন্দ্রজিতের পত্নী। তাঁর চরিত্রে পতিপ্রেম, বিরহবেদনা, দাম্পত্যনিষ্ঠা এবং আবেগের প্রকাশ ঘটেছে।
পতিপ্রেম: যুদ্ধযাত্রার সময় স্বামীকে ছেড়ে থাকতে হবে—এই ভাবনায় তিনি ব্যথিত হন। তাই ইন্দ্রজিতের পথ রোধ করে তাঁর কাছে থাকার আকুতি জানান।
বিরহকাতরতা: যুদ্ধের অনিশ্চয়তার কারণে স্বামীকে হারানোর আশঙ্কা তাঁর মনে তীব্র হয়ে ওঠে। তাঁর কথায় সেই দুশ্চিন্তা স্পষ্ট।
দাম্পত্যনিষ্ঠা: তিনি ইন্দ্রজিতের সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে গভীর ও অবিচ্ছেদ্য বন্ধন হিসেবে দেখেন।
প্রমীলার এই চরিত্র ইন্দ্রজিতের বীরত্বের বিপরীতে কাব্যাংশে একটি কোমল আবেগময় পরিবেশ তৈরি করেছে।
১০. রাবণ চরিত্রের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
উত্তর: ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে রাবণকে একমাত্রিক খলচরিত্র হিসেবে দেখা যায় না। তাঁর মধ্যে পিতৃস্নেহ, রাজধর্ম, বীরত্ব, দায়িত্ববোধ এবং ভাগ্যের কাছে অসহায়তার মতো নানা বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
স্নেহশীল পিতা
বীরবাহুর মৃত্যুতে তাঁর গভীর শোক এবং ইন্দ্রজিতকে যুদ্ধ থেকে দূরে রাখার ইচ্ছা তাঁর পুত্রস্নেহের পরিচয়।
দায়িত্ববান শাসক
লঙ্কা যখন একের পর এক বীর হারাচ্ছে, তখন তিনি নিজেই যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। এতে রাজ্যের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ প্রকাশ পায়।
ভাগ্যাহত ব্যক্তি
পরিস্থিতি তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই তিনি নিজের ভাগ্যকে প্রতিকূল বলে অনুভব করেন।
ধর্মনিষ্ঠ
ইন্দ্রজিতের সেনাপতি পদে অভিষেকের সময় যথাযথ আচার পালনের কথা বলা এবং যুদ্ধের আগে ইষ্টদেবতার পূজার পরামর্শ তাঁর ধর্মবিশ্বাসের পরিচয় দেয়।
১১. ‘যেন উড়িলা মৈনাক শৈল’— পৌরাণিক প্রসঙ্গটি ব্যাখ্যা করে ইন্দ্রজিতের লঙ্কাযাত্রা বর্ণনা করো।
উত্তর: পুরাণকথা অনুসারে প্রাচীনকালে পর্বতদের ডানা ছিল এবং তারা আকাশপথে বিচরণ করতে পারত। দেবরাজ ইন্দ্র পর্বতদের ডানা কেটে দেন। মৈনাক পর্বত পবনদেবের সহায়তায় সমুদ্রের মধ্যে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা পায়। পরে হনুমান যখন সমুদ্র পার হচ্ছিলেন, মৈনাক তাঁকে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য সমুদ্র থেকে উঠে আসে।
‘অভিষেক’-এ ইন্দ্রজিতের দ্রুত লঙ্কাযাত্রাকে কবি মৈনাক পর্বতের আকাশে উড়ে চলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। ইন্দ্রজিতের রথ ছিল দ্রুতগামী এবং তাঁর যুদ্ধোন্মাদনা ছিল প্রবল। তাঁর ধনুকের ছিলার টংকারে লঙ্কা ও সমুদ্র কেঁপে ওঠে। এই উপমার মাধ্যমে তাঁর গতি, শক্তি ও বীরত্বকে মহিমান্বিত করা হয়েছে।
১২. ‘কি ছার সে নর, তারে ডরাও আপনি’— রাজেন্দ্র কে? ইন্দ্রজিৎ কেন এমন কথা বলেছিলেন?
উত্তর: ‘রাজেন্দ্র’ বলতে লঙ্কাধিপতি রাবণকে বোঝানো হয়েছে। ইন্দ্রজিৎ পিতাকে এই নামে সম্বোধন করেন।
প্রভাষার ছদ্মবেশী লক্ষ্মীর কাছে লঙ্কার দুর্দশা ও বীরবাহুর মৃত্যুর কথা শুনে ইন্দ্রজিৎ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হন। রাবণ পুত্রস্নেহের কারণে তাঁকে যুদ্ধে পাঠাতে দ্বিধা করেন। তখন ইন্দ্রজিৎ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন যে রামচন্দ্র সামান্য মানুষ এবং তাঁর মতো শক্তিশালী পুত্র থাকা সত্ত্বেও পিতার নিজের যুদ্ধে যাওয়া উচিত নয়।
এই বক্তব্যে ইন্দ্রজিতের বীরত্ব, আত্মবিশ্বাস, পিতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং কর্তব্যবোধ একসঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে।
১৩. ‘তারে ডরাও আপনি’— বক্তা ও শ্রোতা কারা? বক্তার বক্তব্যের কারণ কী?
উত্তর: বক্তা হলেন ইন্দ্রজিৎ এবং শ্রোতা লঙ্কাধিপতি রাবণ।
রাবণ পুত্রকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাতে চাইছিলেন না। তিনি আশঙ্কা করছিলেন, ইন্দ্রজিতেরও যদি মৃত্যু হয় তবে লঙ্কার শেষ শক্তিশালী বীরটিও হারিয়ে যাবে।
ইন্দ্রজিৎ পিতাকে বোঝাতে চান যে রামচন্দ্রকে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। তিনি ইতিপূর্বে রামকে পরাজিত করেছেন। তাই তাঁর মতো বীরপুত্র জীবিত থাকা অবস্থায় পিতার নিজে যুদ্ধ করা সম্মানের বিষয় নয়। এই আত্মবিশ্বাস থেকেই তিনি পিতাকে আশ্বস্ত করেন এবং যুদ্ধের অনুমতি চান।
১৪. ‘ঘুচাব এ অপবাদ, বধি রিপুকুলে’— অপবাদ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? কীভাবে তা ঘোচাতে চেয়েছিলেন?
উত্তর: এখানে ‘অপবাদ’ বলতে লঙ্কার সংকটের সময় ইন্দ্রজিতের প্রমোদকাননে বিলাসে মগ্ন থাকার বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে। স্বর্ণলঙ্কা যখন শত্রুর দ্বারা আক্রান্ত, তখন তাঁর মতো শ্রেষ্ঠ যোদ্ধার পক্ষে নারীদের মাঝে বিলাসে থাকা তাঁর নিজের কাছেই লজ্জাজনক মনে হয়।
তাই তিনি যুদ্ধসাজে সজ্জিত হন, রথে আরোহণ করেন এবং শত্রুপক্ষকে ধ্বংস করার সংকল্প নেন। লঙ্কায় পৌঁছে তিনি রাবণের কাছে যুদ্ধের অনুমতি চান। এইভাবে নিজের কর্ম ও বীরত্বের মাধ্যমে তিনি সেই অপবাদ মুছে ফেলতে চেয়েছিলেন।
অভিষেক কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| মহাবাহু | শক্তিশালী বাহুর অধিকারী বীর |
| বীরেন্দ্রকেশরী | বীরসিংহ |
| রক্ষঃ-চূড়ামণি | রাক্ষসকুলের শিরোমণি |
| বৈরীদল | শত্রুদল |
| কুণ্ডল | কর্ণভূষণ |
| বামা | নারী |
| রথীন্দ্রবর | শ্রেষ্ঠ রথী বা শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা |
| হৈমবতীসুত | কার্তিকেয় |
| কিরীটি | অর্জুন |
| অম্বর | আকাশ |
| শিঞ্জিনী | ধনুকের ছিলা |
| ধ্বজ | পতাকা |
| কিঙ্করী | সেবিকা বা দাসী |
| গুণনিধি | গুণের আধার |
| বিধুমুখী | চাঁদের মতো মুখ যার |
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
বিশেষভাবে প্রস্তুত করবে: ‘অভিষেক’-এর উৎস ও প্রথম সর্গের পরিচয়, মেঘনাদবধ কাব্যের সর্গসংখ্যা, ইন্দ্রজিতের চরিত্র, লক্ষ্মীর ছদ্মবেশ, বীরবাহুর মৃত্যু, ইন্দ্রজিতের আত্মধিক্কার, প্রমীলার সঙ্গে কথোপকথন, ইন্দ্রজিতের রথসজ্জা, বৃহন্নলারূপী অর্জুনের প্রসঙ্গ, কার্তিকেয় ও তারকাসুরের প্রসঙ্গ, রাবণ-ইন্দ্রজিতের কথোপকথন এবং ইন্দ্রজিতের সেনাপতি পদে অভিষেক।
সহজে মনে রাখার সূত্র
কাব্য: মেঘনাদবধ কাব্য
সর্গ: প্রথম সর্গ
সর্গের নাম: অভিষেক
কেন্দ্রীয় চরিত্র: ইন্দ্রজিৎ / মেঘনাদ
পিতা: রাবণ
মাতা: মন্দোদরী
প্রিয় ভাই: বীরবাহু
পত্নী: প্রমীলা
ছদ্মবেশী দেবী: লক্ষ্মী
লক্ষ্মীর ছদ্মবেশ: প্রভাষা
শত্রু: রামচন্দ্র / রাঘব
বৃহন্নলারূপী কিরীটি: অর্জুন
হৈমবতীসুত: কার্তিকেয়
শেষ ঘটনা: ইন্দ্রজিতের সেনাপতি পদে অভিষেক
